ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় তুরাগ পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দিলে মা বীথি আক্তার (৩০) নিহত হন। বেঁচে যায় মেয়ে টুম্পা (৬)ও ছেলে রাফী (৩)।
মেয়ে টুম্পা জানায়, বাসটি কাছাকাছি আসা মাত্রই তার মা তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। ছোট ভাইটি তার মায়ের কোলেই ছিল। তাৎক্ষণিক বাসটি তার মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। বাসের ধাক্কায় মা পড়ে গেলে সামান্য আঘাত পায় কোলে থাকা তার ছোট ভাই রাফী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি চাপা দেওয়ার পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই চালক পালিয়ে যায়। পরে শিশুসহ আহত মাকে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে দ্রুত উত্তরার সিনসিন হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
টঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চন্দন দে জানান, বীথি আক্তার টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বোন থাকেন টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায়। ওই রাতে বীথি আক্তার তার দুই সন্তানকে নিয়ে বোনের বাসায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে রাত ১২টার দিকে দত্তপাড়া বাসার উদ্দেশে বের হন। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় তুরাগ পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তার দুই সন্তান বেঁচে আছেন।
এসআই জানান, বাসটি থানায় নেওয়া হয়েছে। সিনসিন হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত বীথি আক্তারের বাবা গিয়াস উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বীথির মরদেহ তাদের বাসায় নেওয়া হয়েছে।
এসআই চন্দন দেআরও জানান, স্বামী টুটুলের সঙ্গে বীথি আক্তারের বনিবনা হচ্ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। টুটুল আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন। আর কোনও সমস্যা রয়েছে কিনা, তা যাচাই করে দেখা হবে। এ ঘটনায় কোনও মামলা হয়নি। নিহতদের পরিবারের লোকজনদেরকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ দেওয়ার পর মামলা করে আইনী প্রক্রিয়া চালানো হবে।