ঢাকার সাভারে ইভটিজারদের হাতে খুন হওয়া কলেজ ছাত্রের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মানববন্ধন করা হয়। সচেতন সাভারবাসী ও সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে নিহতের স্বজন ও সাভারের সুশীল সমাজের লোকজনও অংশ নেয়। মানববন্ধনে ইভটিজিংয়ের স্বীকার কলেজ ছাত্রী মোনা ও তার পরিবারও উপস্থিত ছিল।
মানববন্ধন থেকে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের নয়দিন পেরিয়ে গেলেও মূল হোতা মঞ্জুসহ তার সহযোগী আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এসময় তারা আগামী সাতদিনের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের সব আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় খুনিদের বাড়ি ঘেড়াও করে বাড়ি-ঘড় জ্বালিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান।’
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ঠ শিক্ষানুরাগী আলীনুর রহমান খান সাজু, কৃষিবিদ ড.রফিকুল ইসলাম ঠান্ডু মোল্লা, তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর, সাবেক (অব.) সচিব আব্দুস সাত্তার, সাভার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান নঈম, বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের ক্রীড়া সম্পাদক রেজাউর রহমান সোহাগ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ঈদের আগের দিন ২১ আগস্ট (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডের পাশে ছুরিকাঘাতের গুরুতর জখম হয় মারুফ খান। পরে মুমূর্ষ মারুফকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, পরদির ২২ আগস্ট (বুধবার) সকালে নিহতের বড়ভাই লুৎফর রহমান খান মানিক বাদী হয়ে তালবাগ ও টিয়াবাড়ি মহল্লার মঞ্জু, শ্যামল, প্লাবন, মমিন, শামীম, রইছ, আসাদুল, মুক্তাদিন ও ইমরানের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব দাস জানান, কলেজ ছাত্রকে হত্যার ঘটনায় জড়িত মূল হোতাসহ অন্যদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তারা পরিবারসহ পলাতক রয়েছে। ঘটনার পরদিন আসাদুলকে গ্রেফতার করা হয়।