পুলিশ সুপার রিফাত রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে জর্ডান ফেরত ওই কিশোরী ও তার সন্তানকে দেখতে সিংগাইরে যান। এসময় তিনি কিছু আর্থিক সহায়তা ওই কিশোরীর হাতে তুলে দেন। পরে পুলিশ সুপার ওই কিশোরী ও তার পরিবারকে আগামীর নিরাপদ পথ চলা ও সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দেন।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, ‘মানবিক ঘটনা জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে সিংগাইর থানার ওসিকে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘ওই কিশোরীর কোনও দোষ নেই। সে বিদেশে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। নির্যাতিত ওই নারী ও তার সন্তানের দায়িত্ব আমি নিজে নিয়েছি। এদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’ সেই সঙ্গে প্রতিবেশীদের ভালো আচরণ করার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে পুলিশ সুপারকে কাছে পেয়ে খুশি নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী। তিনি বলেন, পুলিশ সুপার আমাকে ও আমার সন্তানকে দেখতে এসেছে এজন্য আমি অনেক খুশি। এখন মনে হচ্ছে আদালতে ন্যায় বিচার পাবো।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দরিদ্র রিকশাচালক বাবার সংসারের অভাব ঘোঁচাতে জর্ডানে গিয়েছিল ওই কিশোরী। কিন্তু সেখানে প্রতারণার শিকার হয়ে শূণ্য হাতে দেশে ফিরে অন্তঃস্বত্ত্বা ওই কিশোরী। পরে গত ২৩ আগস্ট কন্যা সন্তানের মা হন তিনি। কিন্তু সমাজ মেনে নেয়নি তার সন্তানকে। পরিবারকে সমাজপতিরা সমাজচ্যুত ও একঘরে করেন।
এসব কারণে গত ২৮ আগস্ট নির্যাতিত ওই কিশোরী বাদী হয়ে মানবপাচার, নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় আসামি করা হয় সিংগাইর উপজেলার ধল্লা গ্রামের আয়শা আক্তার, জর্ডানে নারী ব্যবসায়ী সিংগাইর উপজেলার চর চান্দর গ্রামের সোনিয়া আক্তার, তার বাবা লিহাজ উদ্দিন বেপারী , মা জড়িনা বেগম ও ভারতীয় নাগরিক গরজিদকে। এদের মধ্যে লিহাজ উদ্দিন বেপারী ও তার স্ত্রী জড়িনা বেগমকে ওই রাতেই গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: