মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দীন কালুর বাড়িতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দুপুর পৌনে ১টার সময় জেলা যুবলীগের দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাদবরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৮-১০ জন নেতকর্মী বিএনপির আলোচনা সভার অদূরে অবস্থিত জেলা শিশু সনদের পাশ দিয়ে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালালে জেলা যুবলীগের দফতর সম্পাদক গুরুতর আহত হন। শনিবার রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় রবিবার রাতে যুবলীগকর্মী আমির আলী সরদার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাদল বেপারি, দুলাল খান, টিপু মাদবর, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ আসলাম, মাহবুব তালুকদার, জেলা যুবদলের সভাপতি আরিফ মোল্যা, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আমান উল্লাহ মাদবর ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ ৭৯ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরও ২ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।
মামলার বাদী জেলা যুবলীগকর্মী আমির আলী সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলা বিএনপির নেতকর্মীরা আলোচনা অনুষ্ঠানের বাইরে এসে ধারালো অস্ত্র ও বোমা নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার চাই।’
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব তালুকদার বলেন,‘ এটা একটা মিথ্যা মামলা। জেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত। দুই গ্রুপই দীর্ঘদিন ধরে পৃথক কর্মসূচি পালন করে আসছে। অথচ এক গ্রুপের আলোচনা অনুষ্ঠানের কাছে হামলার ঘটনায় দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদেরই ঢালাওভাবে আসামি করা হয়েছে।’
পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন যুবলীগ নেতার ওপর হামলার ঘটনায় রবিবার রাতে একটি মামলা হয়েছে। আমরা আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।’