ভাঙাচোরা সড়ককিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়ক সংস্কারের কাজে গতি নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, কাজের ধীরগতির জন্য ভোগান্তি বাড়চ্ছে যাত্রী ও চালকদের। বিকল্প সড়ক না থাকায় ভাঙাচোরা সড়ক দিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। মাত্র ৫৬ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৪-৫ ঘণ্টা। স্থানীদের অভিযোগ, কাজের গতি না বাড়লে তিন বছরেও শেষ হবে না সংস্কার কাজ।
ব্যস্ততম সড়কটি এতটাই সরু ছিল যে, দুটি বাস কিংবা বড় যানবাহন পাশাপাশি চলতে পারে না। ফলে প্রায়ই ঘটতো দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন পর সড়কটি প্রশস্তের উদ্যোগ নেয় সরকার। ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটি ৩০ ফুটে উন্নীত করার কাজ চলছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ কাজের বাস্তবায়ন করছে।
ভাঙাচোরা সড়কতবে কাজের গতি ও মান নিয়ে স্থানীয় লোকজন অসোন্তুষ্ট। পরিকল্পিতভাবে কাজ না হওয়ায় এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনকে প্রতিদিন পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে। প্রায়ই সড়কের বড় বড় গর্তে আটকে যাচ্ছে গাড়ি। খানাখন্দ পাড়ি দিতে গিয়ে বিকল হচ্ছে যানবাহন। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে যাত্রীদের।
সদর উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘যেখানে কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব যেতে আগে সময় লাগতো এক ঘণ্টা, সেখানে এখন সময় লাগছে দুই-তিন ঘণ্টা। কাজ এত ঢিমেতালে চলছে যে শেষ কবে হবে তা আল্লাই জানেন।’
ভাঙাচোরা সড়কআব্দুর জব্বার জানান, রাস্তার কাজ এই হচ্ছে এই বন্ধ আছে। কিশোরগঞ্জের বেশিরভাগ মানুষ ভৈরব সড়কটি ব্যবহার করে ঢাকা যায়। বর্তমানে সকালে বাসে উঠলে বিকালে গিয়ে ঢাকা পৌঁছাতে হয়। আগে তিন ঘণ্টায় ঢাকা যাওয়া যেত, এখন ৫-৭ ঘণ্টা লাগছে।
১৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হচ্ছে সড়কটি। গত এক বছরে মাত্র ২০ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। ফলে বৃষ্টি ও যানবাহন চলাচলের কারণে এগুলো আবার ভেঙে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার মাঝখানে অকেজো হয়ে পড়ছে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন।
সড়কের কারণে বিকল হয়ে যায় যানকয়েকজন বাস চালক জানিয়েছেন, রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে প্রায়ই টায়ার ফেটে যায়,গাড়ির পাতি ভেঙে যায় সেজন্য বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গাড়ি বিকল হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় বসে থাকতে হয়। যাত্রীরাও খুব বিরক্ত হয়।
তবে কাজের ধীর গতি ও নিম্নমানের বিষয়টি মানতে রাজি নন কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগ।
Kishoreganj-Break-on-highway-(5)কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম বলেন, ‘আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। যে গতিতে কাজ হচ্ছে আমি আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবো। সড়কটির কাজ শেষ হলে যানজট অনেকটা কমবে এবং দুর্ঘটনাও নিয়ন্ত্রণে আসবে।’