পরে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে জসীমের নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলায় তাকে দাফন করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তার বাড়ির সামনে নিহত জসীমের মরদেহ রাখা হয়েছে। এলাকার লোকজন তার মরদেহ দেখতে আসেন। জসীমকে দাফনের জন্য স্থানীয় চান্দরা নতুনপাড়া রাশিদা জামে মসজিদের সামনে কবর খনন করা হয়। ওই রাত ৯টায় তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
তবে জানাজার সময় ঘনিয়ে আসতে থাকলে এলাকাবাসী মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে জসীমের লাশ ওই এলাকায় দাফন করতে বাধা দেয় বলে জানান নিহত জসীমের ভাতিজা সোহাগ।
এসময় স্থানীয়দের সঙ্গে ফোর্স নিয়ে কালিয়াকৈর ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আজাহারুল ইসলামও যোগ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে জসীমের মরদেহ কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলা সদরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় পৌর যুবলীগের নেতা সুমন রানা বলেন, যে ব্যক্তি মানুষকে দীর্ঘদিন নানাভাবে হয়রানি করেছে, সরকারের বন বিভাগের সম্পত্তি জবরদখল এবং বিক্রি করেছে এমন লোকের জানাজা ও দাফন চান্দরা এলাকায় আমরা হতে দিবো না এবং দিইনি।
তিনি আরও জানান, এসআই রেজাউল করিম গাজীপুর জেলা ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যান জসীমকে। ওই রাত ১১টার দিকে এসআই সাইফুল ইসলামের সঙ্গে হ্যাপী আক্তারের দুইবার ফোনে কথা হয়। তিনি তার স্বামীর সঙ্গে একবার কথা বলার অনুরোধ করেও কথা বলতে পারেননি। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে জনৈক বাচ্চু মিয়া তাকে খবর দেন তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
তবে কালিয়াকৈর থানার মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল ইসলাম জসীমকে গ্রেফতারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মুচি জসীমকে তিনি চিনতেন। কিন্তু তাকে গ্রেফতার করতে তার বাড়িতে যাননি বা তাকে তিনি গ্রেফতার করেননি। যেহেতু গ্রেফতারের খবরটি সঠিক নয় সেহেতু ডিবি পুলিশের এসআই রেজাউল তার সঙ্গে থাকার প্রশ্নই আসে না।’
চান্দরা এলাকার বাবুর্চি আজাহার হোসেন জানান, গত প্রায় ১৫/১৬ বছর আগে জসীম উদ্দিন ইকবাল চান্দুরা এলাকায় আসেন। স্থানীয় একটি জুতা কারখানায় শ্রমিকের কাজে যোগদান করেন। এক পর্যায়ে চাকরি ছেড়ে নিজেই জুতা তৈরি করে কারখানাগুলোতে সরবরাহ করা শুরু করেন জসীম। ২০১৫ সালে রফিকুল ইসলাম নামে কালিয়াকৈর উপজেলা যুবলীগের এক নেতা হত্যার শিকার হন। ওই মামলার তদন্তকাজ চলার সময় পুলিশের সঙ্গে মুচি জসীমের সখ্যতা গড়ে উঠে। পুলিশকে নানাভাবে তথ্য দিয়ে ওই হত্যা মামলার কয়েকজন অভিযুক্তকে তিনি ধরিয়ে দেন। এক পর্যায়ে ওই মামলার ভয় দেখিয়ে এলাকার নিরীহ মানুষকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেন জসীম। পরে নিরীহরা অর্থের বিনিময়ে পুলিশের কাছ থেকে মুক্তি পান। ওই টাকার ভাগ পেতেন জসীম। এভাবেই মুচি জসীম বিত্ত বৈভব গড়ে তুলতে শুরু করেন।
এলাকাবাসী বলেন, পুলিশের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতার কারণে তার কোনও কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে পারেনি এলাকাবাসী। যে প্রতিবাদ করতে গেছে সেই পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছে। গত দেড় বছরে বনের কমপক্ষে পাঁচ একর জায়গা জবর দখল করে নিয়েছেন মুচি জসীম।
কালিয়াকৈর ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আজাহারুল ইসলাম জানান, মুচি জসীম নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে বনের জায়গা দখল করেন। তাকে বাধা দিয়ে ব্যর্থ হয়ে তার নামে কমপক্ষে ১৮টি বন মামলা দেওয়া হয়েছে। তারপরও তাকে রুখতে পারিনি। তার দখলে থাকা বন বিভাগের জমি উদ্ধারে বন বিভাগ তৎপর রয়েছে।