স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা: সাভার উপজেলার বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতার স্বীকারোক্তি

বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা সেলিমসাভার উপজেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ও ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য সেলিম মণ্ডল স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। বুধবার মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লিভানা খায়ের জেসির আদালতে সেলিম মণ্ডল এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম এ তথ্য জানিয়েছেন।

বুধবার বিকাল সোয়া চারটার দিকে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম তার কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, সেলিম মণ্ডল তার দ্বিতীয় স্ত্রী বকুলকে হত্যার পরিকল্পনার পর ঘটনার দিন (২ আগস্ট) রাতে ঝগড়া শুরু করে। ঝগড়ার একপর্যায়ে সে স্ত্রীকে মারধরের পর হত্যা করে। হত্যার আগে তার বাসায় থাকা রুমের সিসি ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে রাখে। পরে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে স্ত্রীর লাশটি বিছানার চাদর দিয়ে পেঁচিয়ে নিজের প্রিমিও গাড়িতে করে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের স্বরূপপুরে রাস্তার ধারে ফেলে তাতে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরদিন (৩ আগস্ট) ভোররাতে স্থানীয় লোকজন পুড়ে যাওয়া বিকৃতি লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। শরীরের ৯০ ভাগ আগুনে পুড়ে গেলেও মুখমণ্ডল দেখে তার স্বজনরা লাশটি শনাক্ত করে। পরে নিহতের ভাই উজ্জ্বল বাদী হয়ে সেলিম মণ্ডলকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকারীর বর্ণনা দিয়ে পুলিশ দেশের বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনসহ সীমান্তবর্তী থানা ও বিমানবন্দরে বেতার বার্তা পাঠিয়ে দেয়। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ওই লাশের ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম আরও জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ সেলিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। পরে সেখান থেকে মামলার তদন্ত অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন সেলিম মণ্ডলকে সিংগাইর থানায় নিয়ে আসে। ওই দিনই সেলিম মণ্ডলের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত কর্মকর্তা প্রথম দফা রিমান্ডে হত্যার ক্লু পাওয়ার পর অধিকতর জিজ্ঞাসার জন্য আরও ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দ্বিতীয় দফা রিমান্ডের চার দিনের মাথায় বুধবার সেলিম মণ্ডল আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী বকুলকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

এদিকে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২০ আগস্ট সেলিমকে যুবলীগের পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় কমিটি।