নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় স্কুলছাত্রী মোনালিসা আক্তার হত্যা মামলার আসামি আবু সাঈদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাই থেকে আটকের পর দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
দীর্ঘ ৮ মাস পর আসামি আবু সাঈদকে (৩০) আটকের পর রবিবার দুপুরে দেশে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইনলাম।
গ্রেফতার আবু সাঈদ ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ বড় আমবাগান এলাকার ইকবাল হোসেনের ছেলে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, মোনালিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে নিশ্চিত হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এনসিবি শাখার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে আবু সাঈদকে গ্রেফতারের জন্য আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই পুলিশ চলতি মাসের ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করে। পরে সাঈদকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইন্টারপোলের মাধ্যমে আসামি আবু সাঈদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সব প্রক্রিয়া শেষে রবিবার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এরপর আইনি কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এ ব্যাপারে নিহত মোনালিসার বাবা শাহীন বেপারী জানান, ‘দীঘদিন পরও হলেও মোনালিসা হত্যা মামলার আসামিকে দেশে ফেরত আনায় বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি দ্রুত মোনালিসার হত্যাকারী সাইদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে সমাজে আর কেউ এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস না পায়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আবু সাঈদ বিয়ে করার জন্য দুবাই থেকে বাংলাদেশে আসে। পরে সাঈদের পরিবার পাশের বাড়ির স্কুলছাত্রী মোনালিসাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মেয়ের বয়স অল্প হওয়ায় সাঈদের প্রস্তাবে রাজি হননি মোনালিসার পরিবার। পরে সাঈদ পাশের এলাকার ইভা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে। কিন্তু ২ ফেব্রুয়ারি বাড়িতে একা পেয়ে মোনালিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সাঈদ। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ পশ্চিম দেওভোগ বড় আমবাগান এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মোনালিসার লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর আবু সাঈদ দুবাই পালিয়ে যায়। নিহত মোনালিসা আক্তার স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহীন বেপারীর মেয়ে। সে হাজী উজির আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহীন বেপারী বাদী হয়ে আবু সাঈদকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।