গাজীপুরের টঙ্গীতে ন্যাশনাল ফ্যান কারখানায় বিস্ফোরণে ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে এ বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত ও আরও ২০ জন আহত হয়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন,‘গাজীপুরের টঙ্গী ন্যাশনাল ফ্যান কারখানায় হতাহতের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনা তদন্তে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিবে। তার মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ, দুর্ঘটনার জন্য কারা দায়ী এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে তার জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা অনুদান দেবে জেলা প্রশাসন। আহতদের প্রত্যেককে আপাতত ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
কারখানার কর্মচারী রহীম জানান, সকালে সকাল ৮টায় কারখানায় এসে কাজ শুরু করি। বেলা পৌনে ১২টার দিকে হঠাৎ কারখানার হিট চেম্বার বিস্ফোরিত হয়। এতে দুই শ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং ২০ জন দগ্ধ হয়। তাদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আশিকুর রহমান জানান, ন্যাশনাল ফ্যান কারখানার তিন তলা ভবনের তৃতীয় তলায় হিট চেম্বার বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা বলেন,‘ফ্যান রং করার পর হিট চেম্বারে রেখে শুকানো হয়। চেম্বারের হিট মেশিন অতিরিক্ত গরম হয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’
নিহতরা হলেন, নেত্রকোণা সদরের নড়িয়া গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে শামসুল হক (২০) ও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার গড়বাজাইল গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে তাইজুল ইসলাম ওরফে আজিজুল ইসলাম (১৮)। তারা কারখানার পেইন্ট সেকশনের শ্রমিক ছিলেন। নিহতরা টঙ্গীর মরকুন এলাকায় ভাড়া থেকে ওই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
আহতরা হলেন রিপন মিয়া (১৮), কবির হোসেন (২৫), সাজ্জাত হোসেন (১৭), রাসেল মিয়া (১৮), রায়হান খান (২৫), রিপন মিয়া (২১), লাল চাঁন (২৫), মোশারফ হোসেন (১৮), তানজিনা আক্তার (২২), সালমা আক্তার (১৮), কাকলী আক্তার (২০), রনি (২৫), আসিফ হোসেন (১৮), আতিকুল ইসলাম (২০), আক্তারা বেগম (৪০), আকাশ (১৮), আলমগীর হোসেন (২০), বাবু (১৮), রিপন হোসেন (১৮), ঝর্ণা আক্তার (৫০) ও তায়েব খানের (৩২)।
তাদের মধ্যে গুরুতর আহত রিপন, কবির, লাল চাঁন, তানজিলা, সালমা, কাকলী ও রনিসহ আটজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৬ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক পারভেজ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।