জাবিতে চার ছাত্রলীগকর্মী সাময়িক বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়দুই সাংবাদিককে মারধর ও এক ছাত্রীকে লাঞ্ছনার ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের চার কর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কৃতরা হলো- ৪৫তম আবর্তনের বাংলা বিভাগের শুভাশীষ ঘোষ, ৪৭তম আবর্তনের লোক প্রশাসন বিভাগের ইয়া রাফিউ শিকদার, মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সোহেল রানা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন জানান, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের চাপের মুখে ঘটনায় জড়িত আরও তিন কর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের অভিযোগ উঠেছে।

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে ৪২তম আবর্তনের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের নেজাম উদ্দিন নিলয়, ৪৭তম আবর্তনের লোক প্রশাসন বিভাগের মো. আমিনুল ইসলাম ও মো. ইফতেখার উদ্দিনসহ সাত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম দেখা যায়। পরবর্তীতে ওই তিন জনকে বাদ দিয়ে মোট চার ছাত্রলীগ কর্মী বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ।

এ বিষয়ে প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডির প্রাথমিক তদন্ত শেষে সাত জনের নাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঠাই। ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় উপাচার্য নিজ ক্ষমতাবলে চার জনকে সাময়িক বহিষ্কার করেন।’

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল এলাকায় বহিষ্কৃত কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফটো সাংবাদিক বিল্লাল হোসেনকে মারধর করে মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে থাকা চ্যানেল আই অনলাইনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী  মাহমুদুল হক সোহাগ দু’পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করে দেন। পরবর্তীতে ফটো সাংবাদিক বিল্লালকে আবারও মারধর করা হলে সোহাগ এতে বাধা দেন। এর জেরে সোহাগকে মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। সেসময় তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের এক ছাত্রী শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।

ছিনতাই, মারধর ও লাঞ্ছনার বিচার চেয়ে ওই দুই সাংবাদিক ও ছাত্রী সেদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দেন।

ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) আবু হাসান বলেন, ‘সাময়িক বহিষ্কারাদেশ চলাকালে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।’ 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করাই স্বাভাবিক। বহিষ্কৃতরা ছাত্রলীগের কোনও পদে না থাকায় সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে, তারা যাতে সংগঠনের কোনও কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারে সে বিষয়টি আমরা দেখবো।’