আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। আর পূজাকে সামনে রেখে ঢাকার কেরানীগঞ্জে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে ১৫০টি পূজামণ্ডপ। উপজেলার কিছু মণ্ডপে এখন চলছে প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের রঙের ছোপ দেওয়া ও সাজসজ্জার কাজ। আজ রাতের মধ্যেই এসব মণ্ডপের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান প্রতিমা শিল্পীসহ আরও ৪/৫ জন সহযোগী শিল্পী নাওয়া-খাওয়া ভুলে প্রতিটি পূজামণ্ডপে প্রতিমাকে তৈরি করার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারপরও দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলার তৃপ্তি ফুটে উঠছে তাদের চোখেমুখে। পাশাপাশি এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে উপার্জন তাদের এনে দিয়েছে স্বস্তি।
কোনখোলা দুর্গামন্দিরে গিয়ে কথা হয় প্রতিমা শিল্পী মাধব পালের সঙ্গে। আলাপচারিতায় তিনি জানান, এই পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে প্রতিমায় রঙ দেওয়া পর্যন্ত তার মজুরি প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। তিনি এই মজুরিতে আরও ২টি প্রতিমা তৈরি ও রঙের কাজ করেছেন। তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে রয়েছেন আরও ৩ জন কারিগর।
তিনি জানান, সারা বছর ছোট-খাটো কিছু কাজ ছাড়া তারা একদম অলস সময় পার করেন। তাই এই শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় তারা একটু বাড়তি উপার্জনের জন্য হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছেন।
এই মন্দিরের পূজা কমিটির নেতা স্থানীয় ইউপি সদস্য নরেশ চন্দ্র সরকার বলেন, আমরা প্রতিবছরই ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই পূজার আয়োজন করি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে দুর্গাপূজা। তাই তারা এই শারদীয় দুর্গাপূজা বেশ আনন্দের সঙ্গে পালন করার জন্য পূজার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে এই কয়েকটি দিন খুব ব্যস্ততার সঙ্গে পার করছেন। আগামীকাল সোমবার (১৫ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে। বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালন করার মাধ্যমে আগামী ১৯ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এই পূজার সব আয়োজন শেষ হবে।
এবছর উপজেলার দুটি থানার ১২টি ইউনিয়নে ১৫০টি পূজামণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। জিনজিরা, আগানগর ও হযরতপুর ইউনিয়নে অল্প সংখ্যক পূজামণ্ডপের আয়োজন করা হলেও শুভাঢ্যা, কালিন্দী, তেঘরিয়া, কোন্ডা, বাস্তা, রোহিতপুর, শাক্তা, কলাতিয়া ও তারানগর এই ৯টি ইউনিয়নে বিপুল সংখ্যক পূজামণ্ডপের আয়োজন করা হয়েছে। বেশিরভাগ পূজা মণ্ডপ পঞ্চায়েত কমিটির মাধ্যমে আয়োজন করা হয়েছে। তবে কিছু মণ্ডপ ব্যক্তিগতভাবেও বাড়িতে আয়োজন করা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর পরিবেশ বেশ সুন্দর ও খোলামেলা রাখা হয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পূজা উদযাপন কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার বর্মণ জানান, এবছর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা হবে। এজন্য প্রতিটি মণ্ডপ দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দর তোরণ ও আলোকসজ্জা করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র সরকার জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবছর আমরা বেশ বড় আকারে ধুমধাম করে মণ্ডপগুলোতে পূজার আয়োজন করেছি। মণ্ডপগুলোতে সুন্দর তোরণ ও প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। কোনও কোনও মণ্ডপের পাশে শরৎমেলার আয়োজন করা হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মণ্ডপগুলোতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের জানান, তার থানা এলাকায় মণ্ডপগুলোতে আনসার বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া পুলিশ, ডিবি পুলিশও টহলরত অবস্থায় থাকবে সবসময়।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহ জামান জানান, তার থানা এলাকার পূজা মণ্ডপগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে । মণ্ডপগুলোতে সব ধরনের আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।