নাব্য সংকটে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত, তীব্র যানজট

01পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের পদ্মা নদীতে দ্রুত পানি কমে গিয়ে পেয়ে ডুবোচরের কারণে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ফেরি চলাচল বিঘ্ন হওয়ায় বুধবার (২৪ অক্টোবর) ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পদ্মায় ড্রেজিং করছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দৌলতদিয়ার দুটি ঘাট বন্ধ রয়েছে। মাত্র চারটি ঘাট দিয়ে ফেরিতে যানবাহন পারাপার চলছে। এতে পদ্মা পাড়ি দিতে এসে প্রতিনিয়ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে আটকে থাকতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। যদিও পদ্মায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেশ কয়েটি ড্রেজার দিয়ে চলছে খনন কাজ। ফেরিঘাট কমে যাওয়া ও পদ্মায় জেগে ওঠা ডুবোচরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের যাত্রী ও চালকরা।
বিআইডব্লিউটিএ দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়ায় ঘাট এলাকায় নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। নাব্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় দৌলতদিয়ায় তিনটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে খনন কাজ করা হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন ছোট বড় চার থেকে সাড়ে চার হাজার যানবাহন ও লক্ষাধিক মানুষ পদ্মা নদী পারাপার করা হয়। এই নৌরুটে ১৮টি ফেরি থাকলেও বেশ কিছুদিন ধরে বিকল হয়ে ভাসমান কারখানায় মেরামতে আছে কয়েকটি ফেরি। মেরামতের পর কয়েকদিন চলার পর আবারও বিকল হচ্ছে ফেরিগুলো।
ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রী সোহাগ কাজী বলেন,দৌলতদিয়া ঘাটে বাস এসে সিরিয়ালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নাব্য সংকটে নাকি ফেরি আস্তে চলে, তাই এই অপেক্ষা।
কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী বাস যাত্রী শামীম রেজা বলেন, দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে নিয়মিত পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকায় যাতায়াত করে থাকি। সারা বছরই এই ঘাটে কোনও না কোনও ভোগান্তি লেগেই থাকে।
ফরিদপুর থেকে ছেরে আসা আলিফ পরিবহনের চালক বাবু বলেন, ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ওরশ যাত্রী নিয়ে এসেছিলাম। পরদিন আবার ঢাকা ফিরতে দৌলতদিয়া ঘাটে এসেছি পদ্মা পাড়ি দিতে। কিন্তু সকালে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ফেরির দেখা মেলেনি।02
ফেরীর মাস্টাররা বলছেন, পদ্মায় নাব্য সংকট ও ড্রেজিং করার কারণে ফেরি চলাচলে সমস্যার পাশাপাশি স্রোতের কারণে দ্বীগুণ সময় লাগছে। এদিকে ঘাট সংকটে যানবাহনের লোড-আনলোডে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।’
ফেরি রজনীগন্ধার মাস্টার (চালক) ইকরামুজ্জামান বলেন, ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নাব্য সংকটের কারণে ফেরি চালাতে সমস্যা হচ্ছে। পানিতে স্রোতের কারণে পারাপারে আগের চেয়ে সময় বেশি লাগছে।
ফেরি শাপলা শালুকের মাস্টার মো. বাদশা বলেন, ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নাব্য সংকটের কারণে নদীতে ড্রেজিং চলছে। যার কারণে কয়েকটি ঘাট বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দৌলতদিয়া ৫ ও ৬নং ঘাট বন্ধ। পাটুরিয়া থেকে ফেরি চালিয়ে দৌলতদিয়া পৌঁছে ঠিকমতো ঘাট না মেলায় ফেরি ভিড়তে বেগ পেতে হচ্ছে। যানবাহন লোড-আনলোড করতে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।’
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের সহ ব্যবস্থাপক মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘বর্তমানে দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। এরমধ্যে রো রো ৭টি, কে টাইপ ২টি ও ইউটিলিটি ৮টি। নদীতে নাব্য সংকটের কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। যার কারণে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে।
দৌলতদিয়া বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, ‘দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পানি হ্রাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঘাটগুলো মিড ওয়াটার স্টেজে অপারেশনে রাখছি। নদী ড্রেজিংয়ের কাজ অব্যাহত রয়েছে। দৌলতদিয়ায় বর্তমানে ৩টি ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং চলছে। নাব্য সংকট যতক্ষণ না সমাধান হবে বিআইডব্লিউটিএ ততক্ষণ ড্রেজিং কার্যক্রম চালাবে।’