খালেদা জিয়া ও তারেককে মাইনাসের জন্য মইনুল-কামালরা বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করেছে: খাদ্যমন্ত্রী

কেরানীগঞ্জে নির্বাচনি প্রচারণা শেষে বক্তব্য রাখছেন খাদ্রমন্ত্রী কামরুল

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন,‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করার জন্য মইনুল-কামালরা বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করেছে। ১/১১ এর অন্যতম কুশিলব মইনুল-কামালরা ষড়যন্ত্র করে আবারও দেশে একটি অসাংবিধানিক সরকার আনার চেষ্টা করছে।’ বুধবার দুপুরে কেরানীগঞ্জের আটিবাজারে নির্বাচনি গণসংযোগ শেষে আটিবাজার মসজিদ মার্কেটের সামনে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন,‘ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন একজন নারী সাংবাদিককে কটাক্ষ করে সমস্ত নারী সমাজকে অসম্মান করেছে। যারা এ কথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে তারাই তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার কারাগারে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। তার বিরুদ্ধে মামলা কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয় এবং এটা রাষ্ট্রের কোনও বিষয়ও নয়।’

মন্ত্রী বলেন,‘বিএনপি হত্যা ও নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল। জনগণ যাদের প্রত্যাখান করেছিল, যারা চোরাই পথে ক্ষমতায় আসতে চায় তারাই নির্বাচন বানচালের জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তারা নির্বাচনে আসবে কিন্তু এর পেছনে তাদের একটি ষড়যন্ত্র কাজ করছে। যেটা যথা সময়ে দেখা যাবে।’

তিনি বলেন,‘ইসলামের দোহাই দিয়ে যারা দীর্ঘ সময় দেশ শাসন করেছে তারা ইসলামের জন্য কিছুই করেনি। হুজুরদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি আরবি বিশ্ব বিদ্যালয়ের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুজুরদের সেই স্বপ্ন পূরন করেছে। এই আরবি বিশ্বদ্যিালয়টি কেরানীগঞ্জেই বছিলা সেতুর পাশে হবে। প্রধানমন্ত্রী কওমী মাদ্রাসার দাউরা হাদিসকে এম এ পাশের সমমানের স্বীকৃতি দিয়েছেন। মক্তবভিত্তিক মসজিদে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রেখেছেন। এই জন্য মসজিদের ইমামদের প্রতি মাসে ৩/৪ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যমন্তী বলেন,‘আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার, ১০ লাখ অস্ত্র মামলার বিচার, দুর্নীতিবাজদের বিচার ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার করতে পেরেছি। নির্বাচন যথাসময়েই হবে এবং নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন। আমরা আশা করি একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা আবারো ক্ষমতায় আসবে। যারা বাংলাদেশকে ধংস করতে চায়, যারা দেশকে পিছনের দিকে নিয়ে ডুবিয়ে দিতে চায় তাদের আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি এই বিভাজনকে আমরা চিরতরে শেষ করতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকবে আর বিরোধী দলেও থাকবে।’

পথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-২ আসনের নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক শফিউল আজম খান বারকু, সদস্য সচিব ইউসুফ আলী চৌধুরী সেলিম, যুগ্ন আহ্বায়ক হাজী আবু সিদ্দিক, আলতাফ হোসেন বিপ্লব, আইকে শাহিন, অ্যাডভোকেট এনামুল হক, আটিবাজার বনিক সমিতির সভাপিত হাজী মো. জাকির হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার হান্নান প্রমুখ।

পথসভার আগে মন্ত্রী আটিবাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে গত ১০ বছরের তার উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করেন। এসময় তিনি তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং আগামীতে তাকে আবারও নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।