রাজবাড়ী জেলা সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজবাড়ী-১ আসন। আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। কেবল ২০০১ সালের নির্বাচনেই আসনটিতে বিএনপি জয়লাভ করেছিল। তবে আসনটির দখল নিতে এবার দুদলেরই শক্ত অবস্থান লক্ষ করা যাচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী কেরামত আলী এবারও রাজবাড়ী-১ আসন থেকে এমপি মনোনয়ন চান। নৌকা প্রতীক পেতে মাঠে আছেন— জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী মর্জি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও জেলা মহিলালীগের সভানেত্রী কামরুন নাহার চৌধুরী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নওয়াব আলী।
এদিকে, আসনটি পুনরুদ্ধারে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আছেন— সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ খালেক।
অপরদিকে, প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি মাঠে রয়েছে জাতীয় পার্টির নেতারাও। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চাচ্ছেন— জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বাচ্চু, সমন্বয়কারী আক্তারুজ্জামান হাসান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহাদত হোসেন মিল্টন।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বর মাসে হবে। নির্বাচন কমিশন এমনটাই ঘোষাণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মন্ত্রীত্ব দিয়েছেন এ জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার নির্বাচনি এলাকায় যেসব উন্নয়ন করেছি তাতে আমার বিশ্বাস এলাকার মানুষ নৌকায় ভোট দেবেন। শেখ হাসিনা যাকেই নৌকা উপহার দেবেন তার পক্ষেই আমরা কাজ করবো। জনগণের প্রতি আমাদের আস্থা আছে তারা নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় আনবেন।’
আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নওয়াব আলী বলেন, ‘আমি রাজবাড়ী-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন যে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ও ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। আমি বঙ্গবন্ধুর ডাকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। আজও আওয়ামী লীগের সঙ্গেই জড়িত। আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করেছি। অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জেলার মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। এ জন্যই আমি আশাবাদী যে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা আমার সঙ্গে আছেন এবং যোগ্যতার কথা চিন্তা করে আমাকে মনোনয়ন দেবেন। এই আসন থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আমি জয়লাভ করতে পারবো।’
এদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘তিনবার রাজবাড়ী পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং একবার রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলাম। আমার সময়ে রাজবাড়ী-১ আসনে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তাছাড়া দলের ক্রান্তিকালে আমি সবসময় সঙ্গেই ছিলাম। আমার বিশ্বাস এই আসন থেকে দল থেকে আমাকে মনোনয় দেওয়া হবে। মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে রাজবাড়ী-১ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবো বলে আশা করি।’
রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ খালেক বলেন, ‘শক্তিশালী একজন প্রার্থী হিসেবে জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জে মিছিল মিটিংয়ের মাধ্যমে কর্মীদের সংগঠিত করছি। অন্য যারা প্রার্থী আছেন গ্রামের মানুষ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। নেতাকর্মীদের দুর্দিনে আমি পাশে ছিলাম, থাকবো। আশা করি, দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।’
এদিকে, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতোমধ্যেই পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসেইম মুহাম্মদ এরশাদ রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই আমি-১ আসনে কেন্দ্র কেন্দ্রে কমিটি করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে বিজয়ী হয়ে জাতীয় পার্টিকে আসনটি উপহার দিতে পারবো।’
জেলা জাতীয় পার্টির সমন্বয়কারী আক্তারুজ্জামান হাসান বলেন,‘জাতীয় পার্টির জন্মলগ্ন থেকেই আমি দলের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। রাজবাড়ীতে এরশাদের উন্নয়নের কর্মকাণ্ডের ছোয়া আজও লেগে আছে। মনোনয়ন পেলে আমি আসনটি জাতীয় পার্টিকে উপহার দিতে পারবো বলে আশা করি।’
উল্লেখ্য,রাজবাড়ী-১ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন তিন লাখ ৪৬ হাজার তিনশ ৭২ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭৪ হাজার ৩৯ এবং মহিলা ভোটার এক লাখ ৭২ হাজার তিনশ ৩৩ জন।