প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের গাড়ি আটকে দিলো শ্রমিকরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিএস-১ সাজ্জাদুল হাসানের গাড়িনারায়ণগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের গাড়ি আটকে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় আধ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় শ্রমিকদের কবল থেকে রক্ষা পায় গাড়িটি। রবিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে  এই ঘটনা ঘটে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই, প্রশাসন) মোল্লা তাসলিম হোসেন বলেন, ‘শিমরাইল মোড়ে পরিবহন শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের গাড়িটি আটকে দেয়। আমরা খবর পেয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কবল থেকে গাড়িটি উদ্ধার করি। পরে গাড়িটি মেঘনা ঘাট পর্যন্ত পৌঁছে দেই। গাড়িতে সাজ্জাদুল হাসান ছিলেন।’ 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিমারাইল মোড়ে সকালে পরিবহন শ্রমিকরা মাঠে নামে। এসময় তারা মহাসড়কে যান চলাচলে বাধা দেয়। দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে। শ্রমিকরা অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের পরিবহন চলাচলে বাধা দেয়।

কলেজের বাস ভাঙচুরঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০টি স্পটে অবস্থান নেয় শ্রমিকরা। তারা রাস্তায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

সকাল থেকে শ্রমিকরা মোটরসাইকেল, রিকশা ও ভ্যানসহ যেকোনও ধরনের পরিবহন দেখলেই ময়লা, কাদা বা পোড়া মোবিল লাগিয়ে দিয়েছেন। এমনকি ছুবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বেদৌরা বিনতে হাবিব জানান, দুপুর ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় গেলে পরিবহন শ্রমিকরা সেটি আটকায়। এসময় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কলেজের শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসের গ্লাস ভাঙচুর করে এবং বাসের চালক মজিুবর রহমানের মুখমণ্ডলে পোড়া মোবিল লাগিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের দিকে পোড়া মোবিল ছুড়ে মারে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থীর পোশাকে পোড়া মোবিলের দাগ লেগে যায়। 

মোটরসাইকেলও আটকে দেওয়া হয়অধ্যক্ষ বেদৌরা বিনতে হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। যেসব পরিবহন শ্রমিক কলেজের বাস ভাঙচুর করেছে, ছাত্রীদের গায়ে কালি ছুড়েছে; তাদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনা হোক।’

ধর্মঘটের কারণে অফিসগামীদের পাশাপাশি রোগীদের স্বজন ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থীদেরও চরম ভোগান্তি পড়তে হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার মিয়া জানান, পরিবহন শ্রমিকরা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের বহনকরা গাড়িতে ঢিল ছুড়ে ভাঙচুর করেছে বলে শুনেছি। পরিবহন শ্রমিকদের ছোড়া পোড়া মোবিল ছাত্রীদের গায়ে লেগেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তার পরও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের এক ছাত্রীর পোশাকে মবিল ছোড়া হয়নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) ইমরান হোসেন সিদ্দিকী জানান, সাইনবোর্ডে মহিলা কলেজর বহনকারী কোনও গাড়ি পরিবহন শ্রমিকরা ভাঙচুর করেছে বা ছাত্রীদের গায়ে কালি ছুড়ে মেরেছে, এমন কোনও অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: 

বেনাপোলে অচলাবস্থা

ধর্মঘটের নামে নৈরাজ্য

মোংলা বন্দরে অচলাবস্থা

সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

মৌলভীবাজারে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি

মহাসড়কে অতি উৎসাহী শ্রমিকদের বেপরোয়া আন্দোলন