নারায়ণগঞ্জ জেলার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই, প্রশাসন) মোল্লা তাসলিম হোসেন বলেন, ‘শিমরাইল মোড়ে পরিবহন শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের গাড়িটি আটকে দেয়। আমরা খবর পেয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কবল থেকে গাড়িটি উদ্ধার করি। পরে গাড়িটি মেঘনা ঘাট পর্যন্ত পৌঁছে দেই। গাড়িতে সাজ্জাদুল হাসান ছিলেন।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিমারাইল মোড়ে সকালে পরিবহন শ্রমিকরা মাঠে নামে। এসময় তারা মহাসড়কে যান চলাচলে বাধা দেয়। দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে। শ্রমিকরা অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের পরিবহন চলাচলে বাধা দেয়।
সকাল থেকে শ্রমিকরা মোটরসাইকেল, রিকশা ও ভ্যানসহ যেকোনও ধরনের পরিবহন দেখলেই ময়লা, কাদা বা পোড়া মোবিল লাগিয়ে দিয়েছেন। এমনকি ছুবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বেদৌরা বিনতে হাবিব জানান, দুপুর ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় গেলে পরিবহন শ্রমিকরা সেটি আটকায়। এসময় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কলেজের শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসের গ্লাস ভাঙচুর করে এবং বাসের চালক মজিুবর রহমানের মুখমণ্ডলে পোড়া মোবিল লাগিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের দিকে পোড়া মোবিল ছুড়ে মারে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থীর পোশাকে পোড়া মোবিলের দাগ লেগে যায়।
ধর্মঘটের কারণে অফিসগামীদের পাশাপাশি রোগীদের স্বজন ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থীদেরও চরম ভোগান্তি পড়তে হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার মিয়া জানান, পরিবহন শ্রমিকরা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের বহনকরা গাড়িতে ঢিল ছুড়ে ভাঙচুর করেছে বলে শুনেছি। পরিবহন শ্রমিকদের ছোড়া পোড়া মোবিল ছাত্রীদের গায়ে লেগেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তার পরও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
আরও পড়ুন:
সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা