গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক মিজান আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিনশ শ্রমিক চিকিৎসা নিচ্ছে।’ তবে শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে না পারলেও খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানান।
কারখানার ডিজিএম কামরুজ্জামান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কি কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে বিষয়টি বুঝে উঠতে পারছিনা। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।’
পাঁচ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।’
শ্রমিক রোজিনা বেগম, কল্পনা আক্তার ও শিউলি বেগমের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিনিধির। তারা বলেন, তাদের কারখানায় আট হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন। রবিবার দুপুরে খাবার হিসেবে ভাত, মুরগির মাংস, ডাল ও সবজি খেতে দেওয়া হয়। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে খাওয়া শেষে সবাই পুনরায় কাজে যোগ দেয়। বিকাল ৪টার পর থেকে ওই কারখানার কয়েকজন শ্রমিক বমি করতে থাকে। আবার কেউ কেউ মাথা ঘুরিয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়। কিছু সময়ের মধ্যেই একে একে কারখানার পাঁচ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল ও সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাত ৮টা পর্যন্ত একশ শ্রমিক চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে রেফার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও আশুলিয়া গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তক মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে সাড়ে ৩শ শ্রমিক ভর্তি রয়েছে। অন্যদিকে এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে শতাধিক শ্রমিক ভর্তি রয়েছে।