নির্যাতনের পর মৃত ভেবে সাফিককে পার্শ্ববর্তী একটি বাঁশঝাড়ের পাশে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে স্থানীয় কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, নির্যাতনের সময় পাশে দাঁড়িয়ে অনেকে ঘটনাটি দেখলেও ছেলেটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি।
নির্যাতিত সাফিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ২২ অক্টোবর ভোরে নামাজ পড়ার জন্য স্থানীয় মসজিদের দিকে যাচ্ছিলাম। সে সময় লতিফ আমাকে ধরে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। তারপর বরই গাছের সঙ্গে বেঁধে আমাকে সবাই মিলে মারে। আমি জ্ঞান হারানোর পর আর কিছু মনে নাই।’
কালিকাবাড়ি গ্রামের বাদল মিয়া বলেন, ‘নির্যাতনের পর মৃত ভেবে ছেলেটিকে বাঁশঝাড়ে ফেলে রাখা হয়েছিল। কিল,ঘুষি,লাথি ছাড়াও ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাফিককে নির্মমভাবে খোঁচানো হয়। যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় ছেলেটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পায়নি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গতকাল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন সাফিকের মা মোছা. খাতেমন রিনা (ফাতেমা)। মামলার এজাহারে বলা হয়, একই এলাকার মৃত আ. শাহেদ মিয়ার তিন ছেলে লতিফ, করিম, সালামসহ সাইফুল ইসলাম, দিনু মিয়া, রশিদ মিয়া, খলিল, নাসিমা আক্তার ও উজ্জ্বল মিয়া পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে সাফিককে নির্যাতন করে।
কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রমজান মাহমুদ জানান, ছেলেটির সারা শরীরে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে অশঙ্কামুক্ত হলেও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সময় লাগবে।
অভিযুক্ত লতিফ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সবগুলো ঘরই তালাবদ্ধ। এলাকাবাসী জানায়, অভিযুক্ত কাউকেই গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না, হয়তো পালিয়েছে।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুশামা মো. ইকবাল হায়াত বলেন, ‘নয়জনকে আসামি করে মামলা রুজু করেছে নির্যাতিত ছেলেটির মা। আমরা আসামিদের ধরতে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ঘটনাটি প্রথমে চাপা থাকায় আমাদের জানতেও একটু বিলম্ব হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত আমরা আসামিদের ধরতে পারব।’