নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রুপন কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোবারক হোসেন ওরফে মোবা লোকমান হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ আগে থেকে মালয়েশিয়ায় পলাতক ছিলেন। লোকমান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী ওই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মোবারক। তিনি গত ২৫ অক্টোবর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। নরসিংদীতে তার মালিকানাধীন একটি জমি বিক্রি করতেই দেশে এসে আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশ নজরদারি ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এসময় তার সঙ্গে রেহানুল ইসলাম ভূঁইয়া লেলিন নামের আরেকজনকে আটক করা হয়। লেনিনও বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।
মোবারক হোসেনকে গ্রেফতারের পর নরসিংদী নিয়ে এসে তার দেওয়া তথ্যমতে শহরের পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী মহল্লায় তার শ্বশুরের বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় ওই বাসা থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ও ২টি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। মোবারক হোসেনকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানায় পুলিশ। এদিকে তাকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিচারের দাবিতে লোকমান সমর্থকরা বুধবার সকালে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) লোকমান হত্যার সপ্তম বার্ষিকী।
২০১১ সালের ১ নভেম্বর পৌর মেয়র লোকমান হোসেনকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদের ছোট ভাই সালাহউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এরমধ্যে মোবারক হোসেন মোবা বিদেশে পলাতক ছিলেন। বাকি ১৩ জনের সবাই গ্রেফতার হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন। পুলিশ ৮ মাস তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২৪ জুন সালাউদ্দিনসহ এজাহারভুক্ত ১১ আসামিকে বাদ দিয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এতে মামলার এজহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি শহর আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন, এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি নরসিংদী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুল মতিন সরকার, তার ছোট ভাই শহর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সরকারসহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ২০১২ সালের ২৪ জুলাই নরসিংদীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মামলার বাদী কামরুজ্জামান নারাজি দেন। আদালত ২৫ জুলাই নারাজি আবেদন খারিজ করে অভিযোগপত্র বহাল রাখেন। পরবর্তীতে ২৮ আগস্ট নারাজি আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন বাদী। আদালত ২ সেপ্টেম্বর সেই আবেদন গ্রহণ করে ৪ নভেম্বর শুনানি শেষে ফের নারাজি আবেদন খারিজ করেন। এরপর উচ্চ আদালতে যান বাদী। তিনি ওই অভিযোগপত্র বাতিল করে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মাধ্যমে আবার তদন্তের দাবি জানিয়ে নিম্ন আদালতে বিচারকার্য স্থগিত রাখতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। আদালত বাদীর আবেদনটি আমলে নিয়ে নিম্ন আদালতে বিচারকার্য স্থগিত করে দেন।