কেরানীগঞ্জে সব বিদ্যুতের লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

 কেরানীগঞ্জে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, কেরানীগঞ্জের সব বিদ্যুতের লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া হবে। বিদ্যুতের কোনও খুঁটি ও তার মাটির ওপরে থাকবে না। এতে অনেক দুর্ঘটনা কমে যাবে এবং বিদ্যুৎ আর যাবে না। এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এখানে প্রকল্পটি সফল হলে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়েও এই কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি শনিবার (০৩ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ঈদগাহ মাঠে  ‘১০টি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে চলছে কেরানীগঞ্জ’ নামে একটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।

তিনি আরও বলেন, ‘নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কোনাখোলা ও মালঞ্চ এলাকায় বিশাল দুইটি বিদ্যুতের সাবষ্টেশন নির্মান করা হচ্ছে। কেরানীগঞ্জেকে একটি মেগাসিটিতে রুপান্তরিত করা হবে। এই জন্য আমরা ১০টি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। কেরানীগঞ্জের সিংহ নদীসহ ১৭টি খাল উদ্ধার করা হবে। ইতিমধ্যেই শুভাঢ্যা খালটি উদ্ধার ও সংস্কারের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ হয়েছে। খালগুলোকে আর অপরিস্কার রাখা যাবে না। উদ্ধার হওয়া খালের দুইপাড়ে মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেরানীগঞ্জের বেয়ারা এলাকায় অধ্যাপক হামিদুর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মান করা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মেয়েদের জন্য একটি পৃথক স্টেডিয়ান নির্মাণ করা হবে। মেয়েদের ফুটবল, হ্যান্ডবল ও কাবাডি টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে।’

নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ‘কেরানীগঞ্জে চারটি হাসপাতাল রয়েছে। নির্বাচনের পর এসব হাসপাতালকে আড়াই’শ বেডের পরিবর্তে পাঁচ’শ বেডে রুপান্তরিত করা হবে। বর্জ ব্যবস্থাপনায় আমরা বিন্নি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। বাড়ির পাশে আর কোনও ময়লা পড়ে থাকবে না। সমস্ত বর্জ সংগ্রহ করে বর্জ দিয়ে আমরা আগামী বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ শুরু করে দিব।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু

তিনি বলেন, ‘রাউজকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের ভিতরে একটি আইসিটি পার্ক নির্মান করা হবে। এই জন্য একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই প্রকল্পের ভেতরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার জন্য ১০ তলা একটি নতুন ভবন নির্মান করা হবে। কেরানীগঞ্জের আইন শৃঙ্খলা বিগত সরকারের আমলের চেয়ে এই  ১০ বছরে অনেক ভালো।  আমরা রাজনৈতিকভাবে কোনও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেই না। আমরা অনেক স্কুলে নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করেছি। প্রতিটি স্কুলে ডিজিটাল ল্যাব করে দিয়েছি। আমাদের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহে এলিদ মাইনুল আমিন, উপজেলা  মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাজাহন, জাতীয় ক্রিকেটদলের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্ম্দ রফিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন ও এগিয়ে চলছে কেরানীগঞ্জ বইয়ের সম্পাদক ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ম. ই মামুন প্রমুখ। প্রতিমন্ত্রীর নেওয়া ১০টি উদ্যোগগুলো হচ্ছে শিক্ষা, ম্যাগাসিটির মাস্টার প্লান, নদী ও খাল উদ্ধারের মাস্টার প্লান, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা, ক্রিড়া ক্ষেত্রে কেরানীগঞ্জ , আইন র্শংখলা পরিস্থিতি, ডিজিটাল কেরানীগঞ্জ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বর্জব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষা।