জাহাঙ্গীরের বাবার নাম মৃত শফি উদ্দিন। মামলার অন্য আসামিরা হলো মো. আব্দুল রহিম মিয়া (৩৮), মো. সিরাজ মিয়া (৫০), মো. স্বপন মিয়া (৪৫) ও মো. জসিম (৫৫)। মামলাটি দায়ের করেন ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের রমনা ইউনিটের সিআইডি ইন্সপেক্টর মো. মাইনুল ইসলাম।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (০২ নভেম্বর) সকালে ঢাকার রমনা ইউনিটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল হকের নেতৃত্বে সিআইডির একদল পুলিশ জিনজিরার হাউলি গ্রামে জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালায়। জাহাঙ্গীর রাজধানীর রামপুরা থানার একটি মামলার আসামি। পুলিশ তার বাসায় গেলে কয়েকজন লোক দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ একজনকে ধরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার নাম জাহাঙ্গীর মিয়া বলে জানান। সে নকল দলিল, জাল দলিল, জাল খতিয়ান, জাল নামজারি ও জমাভাগের প্রস্তাবপত্র তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে প্রতারণা করে আসছিল বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে।
পরে জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ও দফতরের নকল ৯০টি সিলমোহর, নকল নামজারি ও জমাভাগের প্রস্তাবপত্র ও একাধিক জাল দলিল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা নকল সিলমোহরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, কেরানীগঞ্জ সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) সিলমোহর, সাব-রেজিস্ট্রারের সিলমোহর, কেরানীগঞ্জের ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর বিভিন্ন কর্মকর্তার সিলমোহর, উপজেলা ভূমি অফিসের নাজিরের সিলমোহর, কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সিলমোহর, সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তার সিলমোহর, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের সিলমোহর, বিভিন্ন মেম্বারদের সিলমোহর, বিভিন্ন মানুষের নামে নামজারি জমা ভারে একাধিক প্রস্তাবপত্র ও একাধিক জাল দলিলের কপি।
জাহাঙ্গীর পুলিশকে আরও জানায়, তার সহযোগী কালিন্দী ইউনিয়নের মুসলিমাবাগ গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহিম, জিনজিরার রহমতপুরের মৃত নওয়াব মিয়ার ছেলে মো. সিরাজ মিয়া, নজরগঞ্জের মো. স্বপন মিয়া ও মো. জসিমসহ তারা দীর্ঘদিন ধরে কেরানীগঞ্জের আশপাশের এলাকায় জাল দলিল, জাল খতিয়ান, জাল পর্চা, নকল নামজারি ও জমাভাগের প্রস্তাবপত্র তৈরি করে শত শত মানুষকে নিঃস্ব করে ফেলছে। এছাড়া বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানিকেও জাল দলিলের মাধ্যমে তারা নিরীহ মানুষের জমিজমা কিনে দেয়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,‘ জাহাঙ্গীরকে সিআইডি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।’