মানিকগঞ্জে বিয়ে বাড়িতে হামলা, আহত ১০





মানিকগঞ্জমানিকগঞ্জ সদরের দেড়গ্রাম এলাকার একটি বিয়ে বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় কনের বাবা, ভাই ও বরযাত্রীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে কনের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কনের গলার হার ও নগদ টাকাও লুট হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শাকিল নামের স্থানীয় এক যুবকের নেতৃত্বে ওই হামলা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

কনের চাচা সোহরাব বেপারী জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তার ভাতিজি নাসরিনের বিয়ে উপলক্ষ্যে বরযাত্রীরা এসে খাবার খাচ্ছিলেন। এসময় প্রতিবেশী শাকিলের নেতৃত্বে মোকলেস, সাদ্দাম, সাদী, সাদেক, রাকিব, সোহান, সোলাইমান, পাখি, রুবেল, শাওন, হাকিম, হানিফ, সফিক, মহিদুলসহ আরও ১০-১২ জন লাঠিসোটা নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ডেকরেটরের চেয়ার টেবিল ও গেট ভাঙচুর করে। ফেলে দেয় রান্না করা খাবার। এসময় বাধা দিতে গেলে কনের ভাই, বাবা ও বারযাত্রীদের ব্যাপক মারধর করে।

তিনি জানান, হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। হামলাকারীরা কনের গলার তিন ভরি ওজনের সোনার গয়না, ভাইয়ে কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। আহত দুজনকে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মেয়ের চাচা আরও জানান, ঘটনার পর মানিকগঞ্জ সদর থানা থেকে পুলিশ আসেন বিয়ে বাড়িতে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে ভাতিজি নাসরিনকে ধামরাই উপজেলার গোয়ারিয়া গ্রামে সোরহাব বেপারীর ছেলে সজিবের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কোনও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। শনিবার আসামি সাদী মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছে।

স্থানীয় জাগীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, শুক্রবার শাকিল মোটরসাইকেল নিয়ে বিয়ে বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিয়ে বাড়ির গেটের পর্দার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় কনে পক্ষের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে বরযাত্রীরা আসেল শাকিল তার বন্ধুদের নিয়ে কনের বাড়িতে হামলা করে।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘হামলাকারীরা কাজটা ঠিক করেনি। এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুজ্জামান জানান, বিয়ে বাড়িতে হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।