ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিক নিহত

পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের বাধানারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভোলাইল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে পোশাক  শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়েছে। ওই সময় গুলেনুর বেগম গুলি (৪৫) নামের এক পোশাক শ্রমিক মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১০ পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশত লোক। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

খানপুর তিনশ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক  তাহমিনা নাজনীন জানান, শ্বাসকষ্টজনিত কারণে গুলেনুর বেগম গুলির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোনও আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়নি। 

শিল্প পুলিশ-৪ নারায়ণগঞ্জ জোনের পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, উত্তেজিত শ্রমিকদের শান্ত করার জন্য মাইকে ঘোষণা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্যধারণ করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছিল। কিন্তু, শ্রমিকরা এনার গার্মেন্টের ভেতরে স্টাফ রুম, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। গেইট লাগিয়ে পুলিশ ঢুকতে বাধা দেয় ও পুলিশের ওপর ইটপাটকলে নিক্ষেপ করলে পুলিশ বাধা দেয়।

ফতুল্লা থানার ওসি এস এম মঞ্জুর কাদের জানান, গুলেনুর বেগমের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। তিনি ভোলাই এনা গার্মেন্টের সপ্তম তলার ফ্লোরে হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। ভোলাইল গেদ্দুর বাজার এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও  শ্রমিকরা জানান, তৈরি পোশাক শ্রমিকদের উৎপাদন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল। এরই জের ধরে সকাল ১০টা থেকে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পাগলা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। গাছের গুড়িতে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।