যতই হামলা-মামলা হোক বিএনপি মাঠ ছাড়বে না: মঈন খান

নরসিংদীর পাঁচটি নির্বাচনি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের সংবাদ সম্মেলনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং নির্বাচনি পরিবেশ সব প্রার্থীর জন্য অনুকূল নয় বলে অভিযোগ করেছেন নরসিংদীর পাঁচটি আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মঈন খানসহ অপর চার প্রার্থী এ অভিযোগ করেন।

পাঁচ আসনের বিএনপি প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, নরসিংদীর ৫টি আসনেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে মিথ্যা মামলা, নির্বাচনি প্রচারে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর করে বিএনপি প্রার্থীদের প্রচারে বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়ার চারদিন পরেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যতই হামলা-মামলা হোক না কেন বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনি মাঠ ছাড়বে না।’

নরসিংদী-২ (পলাশ ও সদরের একাংশ) আসনের নির্বাচনি চিত্র তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, ‘এমন কোনও দিন যায়নি যে, আমিসহ আমার নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হচ্ছি না। তাহলে কোথায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড? আমরা এসব হামলার প্রতিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাহলে তারা কেন এমন নির্বাচন দিলো?’

এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে বিএনপির নেতাকর্মীরা বের হওয়ার সময় বিএনপি প্রার্থীদের সামনে থেকেই আনুমানিক ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তবে এ বিষয়ে তারা কোনও কথা বলতে রাজি হয়নি।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কারাগারে থাকা নরসিংদী-১ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবিরের স্ত্রী ও বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নরসিংদী-৩ আসনের প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ আসনের প্রার্থী ও মনোহরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও নরসিংদী-৫ আসনের প্রার্থী মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদী-১ (সদর) আসনের নির্বাচনি চিত্র তুলে ধরে শিরীন সুলতানা বলেন, ‘যেসব নেতাকর্মী আমাদের নির্বাচন পরিচালনা করবে পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা কোথাও নির্বাচনি প্রচার ও গণসংযোগ করতে পারছি না। এমনকি আমার স্বামী বিএনপির প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনকে একে একে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগার থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।’

নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের নির্বাচনি চিত্র তুলে ধরে মনজুর এলাহী জীবননাশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রতিনিয়ত আমার ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। গত বুধবার আমার ১০টি গাড়ি, ১৭টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতিতে আছি তাতে আমি জীবননাশের হুমকিতে আছি। এজন্য শুক্রবার আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করবো।’

নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের প্রার্থী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই দেশটি আমরা কেন স্বাধীন করেছি? যেখানে পুলিশের ছত্রছায়ায় আমার ওপর হামলা হয়েছে, আমার গাড়ি ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার নেতাকর্মীদের কুপিয়ে আহত করা হচ্ছে। সেখানে আবার আমার নেতাকর্মীদেরকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের নির্বাচনি চিত্র তুলে ধরে মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘রায়পুরায় বেছে বেছে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকদের প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণের সময় বলে দেওয়া হয়েছে দলীয় লোকজন ইশারা দেওয়া মাত্র নৌকা প্রতীকে সিল দেওয়ার জন্য।’