গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর, ভবানীপুর, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে একাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। রাজেন্দ্রপুরের এনএজেড কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকেরা রবিবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত থেমে থেমে বিক্ষোভ করে। এ সময় ভবানীপুর এলাকার গোল্ডেন গার্মেন্টস লিমিটেড, শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকার জাবের জোবায়ের, বৈরাগীরচালা এলাকার হ্যামস শিল্প গ্রুপের কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে।
এনএজেড কারখানার শ্রমিক আতিকুর রহমান, শিবলী ও তাদের সহকর্মীরা জানায়, সম্প্রতি সরকার ঘোষিত বেতন কাঠামো উপেক্ষা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ আগের কাঠামো অনুযায়ী বেতনভাতা দিয়ে আসছে। এ কারখানায় ৬ হাজার শ্রমিক কর্মরত আছে। বেতন না বাড়ানোয় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রমিকরা গত সাতদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা কারখানা এলাকায় থাকা একটি মোটরসাইকেল ও একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে, ভবানীপুর এলাকায় একই সময় গোল্ডেন গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকরা একই দাবিতে বিক্ষোভ করে পাশের মণ্ডল গার্মেন্টসে গিয়ে শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের করার চেষ্টা করে। এসময় তারা গেইট ভাঙচুর করে। পরে বিকেল ৩টার দিকে শ্রমিকরা গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ করে। এ কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ ছিল। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এ ব্যাপারে কোনও কারখানা কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইস্কান্দার হাবিব জানান, রবিবার সকাল থেকে রাজেন্দ্রপুর ও ভবানীপুর এলাকায় এন এ জেড লিমিটেডসহ দুটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার সামনে রাখা দুটি মোটরসাইকেল ও কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগে এবং লেগুনা ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের লাঠিচার্জে সময় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে থাকতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে জলকামান ও সাঁজোয়া যান নিয়ে পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।