গাজীপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান পেরা বলেন, বুধবার ও বৃহষ্পতিবার রাতে জেলার সব ক’টি আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। যারা আদালত থেকে জামিনে ছিলেন এমন নেতাকর্মীদেরও গ্রেফতার করে নতুন মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিএনপির যেসব নেতাকর্মী নির্বাচনি প্রচারে গিয়েছেন তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত দু’দিনে কালিয়াকৈর থেকে ২৬, শ্রীপুর থেকে ১৩, কাপাসিয়া থেকে ২২, কালীগঞ্জ থেকে ১৫জনসহ প্রায় ১০০ নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচনে কোনও লেভেল প্লেইং ফিল্ড নেই।
গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর-ভাওয়ালগড়-পিরুজালি-মির্জাপুর) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ইকবাল সিদ্দীকী বলেন, পুলিশি হয়রানি, জামিনে থাকা কর্মীদের গ্রেফতার ও প্রভাবশালী দলের বাধাদানের বিষয়ে বারবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছি। এসবের কোনও প্রতিকার পাইনি। আমার ধারণা, পুলিশ প্রশাসন রিটার্নিং কর্মকর্তার কথা শোনছেন না।
তিনি বলেন, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হককে প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট করেছিলাম। তাকেও পুলিশ খোঁজে। আর যারা আছেন তাদের কথা তো বাদই দিলাম। তারপরও প্রতিটি কেন্দ্রে আমরা এজেন্ট নিয়োগ দিচ্ছি। বুধবার গোসিঙ্গা ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছি। যারাই আমার সঙ্গে সঙ্গে গণসংযোগে অংশ নিয়েছে ওই রাতে তাদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ খোঁজাখুঁজি করেছে।
এ বিষয়ে গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহ কামাল বলেন, পুলিশ কাউকে হয়রানি করছে না। কেউ কোনও মামলার আসামি হয়ে থাকলে পুলিশ প্রচলিত আইনে নিয়ম মাফিক কাজ করছে। নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নষ্ট হয় এমন কোনও কাজ পুলিশ করেনি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, গাজীপুর জেলায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশাসনের সব রকমের প্রস্তুতি রয়েছে। ভোট গ্রহণ অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতা হবে।