পুলিশের হয়রানির শিকার ব্যবসায়ী তুহিন বলেন, ‘শনিবার রাতে রূপগঞ্জের কেন্দুয়া পণ্ড গার্ডেনের সামনে বাবুলের দোকানে বসে আমি চা পান করছিলাম। এসময় ভোলাব উপ-পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রুহুল আমিন ও ছাব্বির আহমেদ আমার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে দাবি করে, আমাকে আটক করে স্থানীয় মায়ারবাড়ি এলাকায় নিয়ে যান। তখন আমি দুই এসআইকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলি, আমর বিরুদ্ধে কোনও মামলা মোকদ্দমা নেই এবং কোনও গ্রেফতারি পরোয়ানাও নেই। থাকলে কাগজ দেখান। কিন্তু পুলিশ কোনও কাগজ না দেখিয়ে আমার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। অন্যথায় অন্য মামলায় চালান দেবে বলে ভয়ভীতি দেখায়।’
স্থানীয়রা জানান, আটকের খবর পেয়ে তুহিনের তার ভাই রিপন স্থানীয় কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ নেতা মাইনউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে মায়ারবাড়ি এলাকার জমজম হোটেলে তুহিনকে ছেড়ে দেওয়ায় জন্য তিন হাজার টাকা দেয় পুলিশকে। পুলিশ আরও টাকা দাবি করে। এদিকে ছেলেকে পুলিশ আটক করেছে এমন খবর শুনে স্ট্রোক করেন মা কাজল রেখা। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে স্থানীয় দায়েমউদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবার বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করলে তিনি ঘটনার তদন্তের জন্য রূপগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হককে দায়িত্ব দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পান আব্দুল হক। পরে রাতেই দুই এসআইকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।
এ ব্যাপারে জেলা বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ রোমান জানান, তুহিনকে বিনা কারণে আটকের অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়ায় দুই এসআইসের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন পুলিশ সুপার। তবে বৃদ্ধার নিহতের ঘটনার সঙ্গে পুলিশের জড়িত থাকার কোনও সম্পৃক্ততা নেই।