ডিজি নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতাই মাপকাঠি নয়: কৃষিমন্ত্রী

কর্মশালায় কথা বলছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক
কৃষি খাতে ডিজি নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু জ্যেষ্ঠতাকেই যোগ্যতা হিসেবে অনুসরণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বিএডিসি, কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদফতরের ডিজি নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনিয়রিটি ইজ নট ক্রাইটেরিয়া। এসব প্রতিষ্ঠানে ডিজি বা বিভাগীয় প্রধান তিনিই হবেন, যিনি বিজ্ঞানী হিসেবে অত্যন্ত ভালো, প্রফেশনালি, একাডেমিক্যালি খুবই সাউন্ড, খুবই নলেজ্যাবল, প্লাস লিডারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজেরিয়াল কোয়ালিটি আছে; তিনিই হবেন ডিজি। আমি যতদিন মন্ত্রী আছি, আমি এটাই ফলো করবো।’

শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউ (ব্রি) মিলনায়তনে এক কর্মশালায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।  পাঁচ দিনব্যাপী ব্রি’র বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০১৭-১৮-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেই চলবে না। তার সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টিজাতীয় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারেও ৫নম্বর অঙ্গীকার ছিল, নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টিজাতীয় খাদ্যের বিষয়টি। অথচ কৃষকরা এখন চাষই করতে চাচ্ছেন না। উৎপাদন ক্ষেত্রে শ্রমিকের খরচই সবচেয়ে বেশি। অনেক কৃষিজমি পতিত পড়ে আছে। শ্রমিকতো নাই বললেই চলে। বর্তমানে কৃষি শ্রমিকের বিরাট সংকট রয়েছে। শ্রমিকরা অন্য পেশায় গেলেও কৃষিতে কাজ করতে যেন তাদের আগ্রহ নেই। ফলে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিকল্প নেই। আমি মনে করি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষিকে লাভবান করতে হলে এ মূহুর্তে কৃষক পর্যায়ে আরো ভর্তুকি দিতে হবে। আরও ইনসেটিভ দিতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য ইংরেজির প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের দেশে ফেব্রুয়ারি মাসের একটা ইমোশন দিয়ে ইংরেজিকে ইগনোর করা হয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিজ্ঞানীরা ইংরেজির ওপর ভর করে সায়েন্টিফিক কমিউনিটিতে আন্তর্জাতিকভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই ইমোশনের প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা আছে, যারা শিল্প-সাহিত্য নিয়ে কাজ করেন তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা আছে। চাইনিজরা, জাপানিজরাও এখন ইংরেজি শিক্ষার জন্য পাগল, তারা ইংরেজি শিক্ষার জন্য নানা রকম কর্মসূচি নিয়েছে। বিজ্ঞানীদের কমিউনিকেশন স্কিল আপগ্রেড করতে হবে। বিজ্ঞানীদের প্রমোশন দেওয়ার বেলায় কমিউনিকেশ স্কিলের গুরুত্ব দেওয়া হবে।’ 

ব্রি’র উদ্ভাবিত জাত নিয়ে সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘এত ভ্যারাইটি (ভিন্নতা) ডেভেলপ হচ্ছে, কিন্তু আমরা মাঠে গেলে দেখতে পাই ব্রি ধান ২৮, ব্রি ধান-২৯ এবং বিআর-১১। এ তিনটি ভ্যারাইটি ডমিনেন্ট করছে। অন্য ভারাইটিগুলো কেন মাঠে যাচ্ছে না, জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করতে হবে। জাত উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের চিকন চাল ও তার স্বাদের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা প্রতি বছর দুই থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলার মূল্যের সয়াবিন, পাম অয়েল জাতীয় ইডিবল অয়েল আমদানি করছি। এক্ষেত্রে যদি আমরা দেশে সরিষা উৎপাদন করে যোগান দিতে পারি, তার জন্য প্রকল্প নেওয়া  হবে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্রি’র মহাপরিচালক মো. শাহজাহান কবীর। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. ফজলে ওয়াহেদ খোন্দকার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. কবির ইকরামুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ মহাপরিচালক মীর নূরুল আলম, ব্রি’র  (প্রশাসন) মো. আনসার আলী বক্তব্য রাখেন। এতে ব্রি’র পরিচালক (গবেষণা) তমাল লতা আদিত্য কর্মশালার মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন।