লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মিঠাপুর চন্ডিবর্দী মৌজায় ১৪৫নং খতিয়ানের ৫০১নং দাগের ৪০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের জন্য ২০১৭ সালের ২৫ মে ৩ ও ৪ ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়। জমির মালিক কাদের খানের ওয়ারিশগণের পক্ষে গোলাম মোস্তফা খান ২০১৭ সালের ১১ জুন আপত্তি দাখিল করেন। কিন্তু আপত্তির সময় পার হয়ে গেছে দাবি করে জেলা প্রশাসন অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচপারপতি মো. আতাউর রহমান খানের বেঞ্চে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন ভূমির মালিকরা। হাইকোর্ট বিবাদীদের বিরুদ্ধে রুল জারি করে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওই জমির ওপর পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য আদেশ দেন।
কিন্তু এই আদেশের পরও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জমিতে খুঁটি গেড়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। এরই প্রেক্ষিতে বাদীপক্ষ জেলা প্রশাসক, ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা ও জেনারেল ম্যানজারকে একাধিকবার কাজ বন্ধ রাখার ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনা মান্য করার ব্যাপারে আইনগত নোটিশ দেন।
জমির মালিক পক্ষ গোলাম মোস্তফা খান দাবী করে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট জমিতে প্রায় একশ’ বছরের পুরনো পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। এই জমি অধিগ্রহণ করে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে কবরস্থানটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এছাড়া পরিবারের ভাইদের এই জায়গা ছাড়া বাড়ি করার উপযোগী আর কোনও জায়গা নেই। তাছাড়া এই মিঠাপুর এলাকায় সরকারি জমিসহ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ উপযোগী আরও অনেক জায়গা রয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করলে আমরা হাইকোর্টের নির্দেশনা সম্বলিত কাগজ দেখিয়ে কাজ করতে নিষেধ করি। অথচ মাদারীপুর থানা পুলিশের সহায়তায় ওই জমিতে কাজ শুরু করা হয়। মাদারীপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আমদের বলা হয় যে, কাজে বাধা দিলে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় আমাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাবেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কি কোনও মূল্য নেই? জমি অধিগ্রহণের কোনও টাকা-পয়সাও আমরা নেইনি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদারীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, ‘সরকার থেকে যেকোনও কাজ শুরু করলে তারা পুলিশের কাছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সহায়তা চাইতে পারে। সংশ্লিষ্ট জায়গায় কাজের ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে তারা আইনগত সহায়তা দিতে পারেন।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই জায়গায় পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্র নির্মাণ জরুরি। অভিযোগকারী ভূমির মালিকরা জমি অধিগ্রহণের টাকা গ্রহণ করুক বা না করুক তাতে কিছুই আসে যায় না। কোনও জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আদালতও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। এছাড়া মিঠাপুরের ওই জায়গার ব্যাপারে উচ্চ আদালত শুধুমাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।’