মেয়েকে হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

 

গ্রেফতারগাজীপুরের শ্রীপুরে নিজের মেয়েকে হত্যার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার ভোরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড (মাস্টারবাড়ি) এলাকার ইয়াছিন হাজির বাড়ির ভাড়াটিয়ার ঘরের খাটের নিচ রাখা অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুর মা নাসরিন আক্তার মামলা দায়ের করেছেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদুল ইসলাম জানান, ২০১২ সালে পারিবারিকভাবে নাসরিন আক্তার ও রফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী গাজীপুরের সালনা এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। পরে স্ত্রী পরকীয়ায় জড়ালে তার সঙ্গে সংসার করবে না বলে প্রায় দেড় বছর আগে স্বামীকে তালাক দেয়। তার স্বামী মেয়ের টানে ছয় মাস আগে স্ত্রীর কাছে গেলে তারা আবার একসঙ্গে সংসার করতে থাকে। দুই মাস আগে তারা শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড (মাস্টারবাড়ি)এলাকার ইয়াছিন হাজির বাড়ির একটি রুম ভাড়া নেয়। সেখানে থেকে তারা স্থানীয় ডেনিমেক পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। এরমধ্যে স্ত্রী নাসরিন তার মায়ের জমি বিক্রির কিছু টাকা পায়। এ নিয়ে শনিবার রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়। সকালে স্ত্রী কারখানায় চলে যায়। এ সময় স্বামী রফিকুল অসুস্থতার কথা বলে কারখানায় যায়নি। মধ্যাহ্ন বিরতির সময় স্ত্রী বাসায় এলে শিশু কন্যাসহ তারা একসঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া করে। পরে বিকেল ৫টায় কারখানা ছুটি হলে নাসরিন বাসায় ফিরে মেয়েকে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। কোথাও না পেয়ে স্বামীর কাছে ফোন দিলে সে জানায়, আমরা অনেক দূরে চলে গেছি। আমাদের আর পাবি না। পরে নাসরিন আক্তার নিজেই থানায় ফোন দিয়ে তার শিশুকন্যাকে খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে খাটের নিচে থাকা অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলের ভেতর থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে। তাদের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার চাপাত গ্রামে।
ওসি জানান, সোমবার ভোরে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় শিশুর মা নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।