জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ডিন, সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকদের একাংশ। নির্বাচন না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবিও জানিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ’ জোটের প্রায় ৩৫ জন শিক্ষক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে এসব দাবি জানিয়েছেন।
‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের’ মুখপাত্র এবং ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের’ যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. শামছুল আলম বলেছেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন পর্ষদে নির্বাচন ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয়ে আমরা দাবি জানিয়ে আসছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় আজ মেয়াদোত্তীর্ণ তিন পর্ষদে নির্বাচন, নতুন নিয়োগ না দেওয়া এবং আইন অনুষদে সৃষ্ট সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছি। উপাচার্য আসন্ন রমজানের ছুটি (০৬ মে) শুরুর আগেই ধারাবাহিকভাবে সব নির্বাচন দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’
‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের’ সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবির বলেছেন, ‘গত জুনে ডিনদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রায় ছয় মাস ধরে সিন্ডিকেটের বিভিন্ন পদের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে। ১০ মাস ধরে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল সভা হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম গতিশীল করতে এসব পর্ষদে নির্বাচন জরুরি।’
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, ‘উপাচার্য মেয়াদোত্তীর্ণ পর্ষদগুলোর নির্বাচনের ব্যাপারে গড়িমসি করে আসছিলেন। অনির্বাচিতরা দায়িত্বে থাকলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় না। আর নির্বাচনের আগে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিলে যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্য প্রাধান্য পাবে। শিক্ষক নিয়োগ না হয়ে ভোটার নিয়োগ হবে। তাই নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নতুন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছি।’
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. সোহেল রানা বলেছেন, ‘ডিন, সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে শিক্ষকদের প্রতিনিধি থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সেসব জায়গায় নির্বাচিত প্রতিনিধি দরকার। তাই গুরুত্বপূর্ণ সেসব পর্ষদে নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছি। উপাচার্য মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ তিন পর্ষদে নির্বাচন সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন।’