‘তর্ক করেছে তাই দু’টি বাড়ি মেরেছি, বোধ হয় জোরে লেগেছে’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাকিন

রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার এয়াকুব আলী বিদ্যাপীঠের ছাত্র সাকিন সরদারকে (১২) বেত দিয়ে পিঠিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে। সাকিনকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সাকিন এয়াকুবর আলী বিদ্যাপিঠের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা কাতার প্রবাসী জিলানী সরদার। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিদ্যালয় চলাকালীন।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) সাকিন বলে,  ‘বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্কুলে যাই। ক্লাসে ব্যাগ রেখে মাঠে গেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র নাফিজ আমাকে ডেকে বলে, তুমি কি রুবেলের ভাই? হেড স্যার তোমাকে ডেকেছেন। আমি প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গেলে তিনি কিছু জানতে না চেয়ে বেত দিয়ে মারতে থাকেন। কারণ জানতে চাইলে আরও মারতে থাকেন। পরে ক্লাসে পাঠিয়ে দেন। অসুস্থ অবস্থায় দুপুরে বাড়িতে চলে যাই। শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হলে বাড়ির সবাইকে ঘটনাটি জানাই।’

সাকিনের চাচা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামে কয়েকদিন আগে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। নাফিজ নামের যে ছেলেটি আমার ভাতিজাকে ডেকে নিয়ে গেছে তার মা অন্য ছেলে মনে করে প্রধান শিক্ষককে দিয়ে সাকিনকে মার খাইয়েছে। সে খুবই ভদ্র ও নরম স্বভাবের ছেলে। প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণে আমরা হতবাক। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

সাকিনের মা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে কোনও কারণ ছাড়াই প্রধান শিক্ষক বেত দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে মিটিং ছিল। মিটিংয়ের পর একটি ছেলে ও অভিভাবক বিচার নিয়ে আসে যে তার ছেলে নাফিজ ও আরেকটি ছাত্র স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভ্যান রিজার্ভ নিয়ে ঝামেলা করেছে। পরে আমি ঘটনাটি শুনতে নাফিজকে সেই ছেলেটিকে ডেকে আনতে পাঠাই। সে সাকিন নামের ছেলেটিকে নিয়ে আসে। কিছু জানতে চাইলে সে তর্ক করে। এতে আমি শাসন করতে বেত দিয়ে কয়েকটি বাড়ি মেরেছি। ছেলেটির স্বাস্থ্য ভালো এজন্য হয়তো দাগ হয়ে গেছে। বোধ হয় কিছুটা জোরে লেগেছে। তবে আমি নিজেও বুঝতে পারিনি যে গ্রামের মানুষের পারিবারিক ঝামেলা এমন রূপ নেবে।’

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নুর মোহাম্মদ শেখ জানান, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের মিটিং চলাকালীন একটি ছেলের সঙ্গে দেখলাম প্রধান শিক্ষক কথা বলছেন। ছেলেটির কথায় হয়তো রেগে গিয়ে তিনি বেত দিয়ে কয়েকটি বাড়ি মারলেন।

পাংশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)আহসান উল্লাহ জানান,শিশুটিকে দেখতে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসরাম জানান,ঘটনাটি শুনেছি। কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন পাঠাবো। তবে আইনে শিশু নির্যাতন নিষেধ রয়েছে।