নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা রেলস্টেশন সংলগ্ন বোম্বে ফেব্রিক্স অ্যান্ড ডাইয়িং কারাখানায় আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় তিনতলা কারখানাটি বিকট শব্দে ধসে আশেপাশের বাড়ি ওপর গিয়ে পড়ে। তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, তিনতলা কারখানার দ্বিতীয় তলার কেমিক্যালের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মূহূর্তের মধ্যেই আগুন কারখানার তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে ভবনটির তিন পাশের দেওয়াল ধসে পড়ে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীর দুইটি স্টেশন থেকে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দমকল বাহিনী প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর সকাল সাতটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, আগুনে কেউ হতাহত হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, গুদামে রাখা কেমিক্যালের কোনও ড্রাম বিস্ফোরণ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়ে। তদন্তের পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে ডাইংকারখানার দেওয়াল ধসে ডাইংকারখানার পাশে বেশ কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘরের ওপরে গিয়ে পড়লে তা ভেঙে যায়। এছাড়াও বিস্ফোরণের কারণে কারখানা থেকে বেশ দূরে একটি মসিজিদের জানালার কাঁচ ভেঙে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত আবুল খায়ের ও রেজাউল জানান, সকাল পাঁচটার দিকে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে এসে দেখি ডাইং কারকানায় আগুন জ্বলছে। আর এক পাশের দেয়াল ধসে পড়ছে।
তারা আরও বলেন,‘ডাইং কারখানার ভবনটি বেশ পুরনো। ধারনা করা হচ্ছে ক্যামিকেল ড্রাম বিস্ফোণের চাপে দেয়াল ধসে পড়েছে। এতে আমাদের বিশটি টিনসেট ঘর ও দোকান ভেঙে মাটিতে গুড়িয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই কারাখানায় আরও কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা আবাসিক এলাকা থেকে কারখানাটি অপসারণ দাবি করেন।