নদীগুলো ড্রেজিং করা গেলে ঢাকায় যানবাহনের চাপ কমবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পর্যটকবাহী জাহাজ সেবার উদ্বোধনীতে বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদীগুলো ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা করেছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকায় যানবাহনের চাপ কমে আসবে। ঢাকাগামী সড়ক রুটগুলোর ওপরও চাপ কমবে।’ শুক্রবার (২৯ মার্চ) বিকালে নারায়ণগঞ্জের পাগলায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) মেরি এন্ডারসন ভিআইপি জেটিতে তিনি এসব বলেন। এ সময় ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে জাহাজ সেবার উদ্বোধন হয়।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কথায়, ‘১৯৭২ সালে অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যৌথ নদী কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক গঙ্গাপ্রবাহ চুক্তি করেন। বাংলাদেশ নদীর দেশ। এ দেশের নদীগুলো কত সুন্দর সেই অনুভূতি তিনি আমাদের জানান।’
মন্ত্রীর কথায়, ‘বাংলাদেশের যত শহর, বন্দর, বাজার ও সভ্যতা; সবই নদীর তীরে হয়েছে। নৌপথে ভ্রমণ ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সবচেয়ে প্রিয়। তিনি পরিবারের সদস্য ও জাতীয় নেতাদের নিয়ে চাঁদপুর, বরিশাল, গোয়ালন্দ হয়ে গোপালগঞ্জে নিজের গ্রামে যাতায়াত করতেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেইসব ভ্রমণের স্মৃতি এখনও মাঝে মধ্যে আমাদের সামনে তুলে ধরেন।’
পর্যটকবাহী জাহাজ সেবার উদ্বোধন করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালঅনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তার ভাষ্য, ‘প্রধানমন্ত্রী বুড়িগঙ্গার পানি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এজন্য আমরা যথাযথভাবে কাজ করছি।’

বিআইডব্লিউটিসি’র নিজস্ব অত্যাধুনিক জাহাজ এম.ভি. মধুমতি শুক্রবার রাত ৮টায় ৮০ জন যাত্রী ও কেবিন ক্রুসহ ১২০ জনকে নিয়ে মেরি এন্ডারসন ঘাট থেকে কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এই নৌযানে চড়ে যাত্রীরা সুন্দরবনসহ দক্ষিণ বাংলার অপার সৌন্দর্য উপভোগ করে কলকাতায় পৌঁছাবেন।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘৭০ বছর ধরে ভারতের সঙ্গে আমাদের নৌপথে পর্যটকবাহী ক্রুজ শিপ বন্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে আবারও দুই দেশের নৌপথে যাত্রীদের জাহাজে সেবা দেওয়া শুরু হলো। তাই আজকের দিনটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে নৌপথে নতুন দিগন্ত রচনা হলো।’

জানা গেছে, শুক্রবার কলকাতা থেকে ‘মেসার্স আরভি. বেঙ্গল গঙ্গা’ নামের একটি ক্রুজ শিপ ঢাকা অভিমুখে রওনা করছে। জাহাজ দুটি বরিশাল, বাগেরহাটের মংলা, সুন্দরবন, খুলনার আন্টিহারা ও ভারতের হলদিয়া রুট হয়ে কলকাতায় যাবে ও নারায়ণগঞ্জে আসবে।

গত বছর ঢাকা-কলকাতা যাত্রীবাহী জাহাজ পরিবহনের বিষয়ে সম্মত হয় বাংলাদেশ ও ভারত। এ সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের নৌপরিবহন সচিব আবদুস সামাদ ও ভারতের জাহাজ মন্ত্রণালয়ের সচিব গোপাল কৃষ্ণ। নৌযান চালুর ফলে ভারতের গঙ্গা আর বাংলাদেশের যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদী তিনটি নৌ-যোগাযোগে সংযুক্ত হবে।