বগুড়া শহরের মফিজ পাগলার মোড় এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের তিনটি ফ্লোর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাতে মিজানুর রহমান নামে একজনকে আটক ও ফ্লোর তিনটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে রবিবার দুপুরে সদর থানা পুলিশ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ওষুধগুলো উদ্ধার শুরু করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিন জানান,ওষুধগুলো তিনি স্বল্প দামে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালের স্টোরকিপার ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কিনেছেন। বিভিন্ন ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসক তার ক্রেতা।
সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানিয়েছেন, সিজারলিস্ট করার পর ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রির মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন, ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, ওষুধগুলোর অধিকাংশই বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ওষুধাগারে (সিএমএসডি) সরবরাহ করা। অসাধু চক্র এসব ওষুধ হাসপাতালে আসার আগেই বিক্রি করে দেয়।
তিনি আরও বলেন,‘তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। পরে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ও বিভাগীয় মামলা হবে।
বগুড়া সদর থানার এএসআই আবু তাহের জানান, তিনি শনিবার রাতে সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারেন সারিয়াকান্দি উপজেলার চৌকিবাড়ি গ্রামের মো. রফিকের ছেলে মিজানুর রহমান রবিন শহরের মফিজ পাগলার মোড়ে একটি ভবনের তিন ফ্লোরে বিপুল পরিমাণ সরকারি বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুদ করেছেন। তার শহরে সাত মাথায় নদীবাংলা কমপ্লেক্সে রবিন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে রবিনকে গ্রেফতারসহ ভবনের তিনটি ফ্লোরে তালা দিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভবনের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চমতলার কক্ষের তালা খুলে ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ এবং সার্জিক্যাল সামগ্রী জব্দ করে।
বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুদ মজুদকারী মিজানুর রহমান রবিন জানান, তিনি গত দু’বছর আগে শহরের মফিজ পাগলার মোড়ে একটি ভবনের তিনটি ফ্লোর ১৮ হাজার টাকা ভাড়া নেন। বগুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালের স্টোরকিপার ও সরবরাহকারীদের কাছে থেকে ১০/১২ আইটেমের ওষুধ ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় কিনেছেন। তার এ ওষুধের ক্রেতা বিভিন্ন ক্লিনিকের চিকিৎসক ও মালিক। তার এ অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত নেই।
এএসআই আবু তাহের আরও জানান, ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রীগুলো উদ্ধারের পর সিজার লিস্ট তৈরি করা হবে। এরপর এসবের মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরে ওষুদ মজুদকারী মিজানুর রহমান রবিনের বিরুদ্ধে করা মামলা হবে।