স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই বিদ্যুৎ, জানালা-দরজাও ভাঙাচোরা

বরমী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। একতলা ভবনের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দরজা-জানালাও ভাঙাচোরা। যেকোনও সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এমন একটি ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। 

উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদের পলেস্তার খসে পড়েছে

বরমী ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আলমগীর হোসেন জানান, তিনি একজন ডিপ্লোমাধারী কর্মকর্তা হিসেবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সেখানকার মেডিক্যাল অফিসারকে অন্যত্র প্রেষণে বদলি করা হয়েছে। একজন ফার্মাসিস্ট উত্তম কুমারকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করে নেওয়া হয়েছে। অফিস সহকারী আখের মিয়া মাসের ১৫ দিন কাজ করেন বরমী স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে। বাকি দিন কাজ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বর্তমানে তিনি মেডিক্যাল অফিসার, ফার্মাসিস্ট এবং অফিস বয়-এর কাজ করে যাচ্ছেন।

SRiPUR(GAZiPUR)--BARMi-SUB-HEALTH-CENTRE-(8)

তিনি আরও বলেন, ১৯৫১ সালের ১৫ই জুন এ ভবনটির উদ্বোধন করা হয়।  নির্মাণের পর একবার সংস্কার করার পরও ভবনের ছাদ ও দেয়ালে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় অল্প বৃষ্টি হলেই মেঝেতে পানি পড়ে। ভবনের ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশের পলেস্টার খসে পড়ছে। দরজা-জানালাগুলোও নড়বড়ে। বর্তমানে ভবনের ছাদের থাকা বটসহ অন্যান্য গাছের শেকড় ছাদের ভেতরে ঢুকে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ভবনে বসেই চিকিৎসা দিচ্ছেন।

বরমী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রএদিকে,এ ভবনে নেই বিদ্যুত সংযোগ। একটু মেঘ হলেই অন্ধকার হয়ে যায় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। আর গরমের দিনে চিকিৎসক ও রোগীরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। ভাঙা দরজা-জানালা দিয়ে চোরেরা ওষুধসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ করলেও কোনও লাভ হয়নি।

গাছের শেকড় ছড়িয়ে পড়েছে বরমী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দেয়ালে

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা মঈনুল হক জানান, বরমী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) ও ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক, গাজীপুরের সিভিল সার্জন, হেলথ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টকে অবগত করেছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজন হলে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে অন্যত্র সরানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু, এ ব্যাপারে কোনও অগ্রগতি নেই। ফার্মাসিস্ট অবসরে চলে যাওয়ায় এবং অফিস সহায়ক সংকট থাকায় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দু’জনকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনা হয়েছে। এছাড়া মেডিক্যাল অফিসারের প্রেষণ বাতিল করে আগের মেডিক্যাল অফিসারকেও ফেরত আনার আবেদন করা হয়েছে।