প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই রাতে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ভাদগাতী গ্রামে বাড়ির পাশে একটি মুদি দোকানে সাবেক এমপি মোখলেছুর রহমান জিতু মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান ফয়সালকে (৩২) গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন মুক্তা বাদী হয়ে ১ আগস্ট রাতে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মুক্তা বলেন, তার ভাইকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনি ৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।
মুক্তাকে না জানিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে মামলার ৪নং অভিযুক্ত মঞ্জুর (৪২) ও সাইদুল ইসলাম মোসলেহ উদ্দিন মাস্টারের (৫৮) নাম বাদ দেওয়া হয়। আইনজীবীর মাধ্যমে মুক্তা জানতে পারেন এজাহারভুক্ত দুই আসামির নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তের ফলাফল বাদীকে অবহিতকরণ সংক্রান্ত ফর্মে তার স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আবুল হাশেম জানান, আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রের সঙ্গে অবহিতকরণ ফরমে যে স্বাক্ষর তা বাদীর নিজেরই। তাছাড়া অভিযোগপত্র থেকে ওই দুই আসামির নাম বাদ দেওয়ায় বাদী তার স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করছেন। অথচ হত্যার ঘটনায় ওই দুই আসামি সম্পৃক্ত না থাকায় তাদের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাদীর স্বাক্ষরিত ফরমটি আগের তদন্ত কর্মকর্তার রেখে যাওয়া মামলার ডকেটে ছিল। তাছাড়া বাদীকে একাধিকবার থানায় আসতে বললেও তিনি না আসায় তাকে অবহিত না করেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।