টাঙ্গাইলে পৃথক ৩টি স্থান থেকে এক কলেজ শিক্ষার্থীসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ এপ্রিল) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার থানা পাড়ার শান্তিকুঞ্জ মোড়, আদালত পাড়া এবং নামদার কুমুল্লী এলাকা থেকে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সায়েদুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে মাজহারুল ইসলাম মাসুদ (২৪) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শহরের থানা পাড়া শান্তিকুঞ্জ মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল মধ্যপাড়া এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে।
মাসুদের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,‘রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আমরা টাঙ্গাইলে চলে আসি। আমার ভাইয়ের দুই হাতে ও দুই পায়ে এবং গলায় সাদা কস্টেপ পেছানো রয়েছে। আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। এরআগেও আমার ভাই মাসুদকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হলে টাঙ্গাইল মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিল। এরপর গত রাতে দুর্বৃত্তরা আমার ভাইকে হত্যা করে। আমি ভাই হত্যার বিচার দাবি করছি।
সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের শিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন,‘মাসুদ ভালো ছাত্র ছিল। তার ফলাফলও ভালো ছিল। অকালে তার মৃত্যু হবে তা কখনও কল্পনাও করিনি। এর সঠিক বিচার দাবি করছি।’
টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সায়েদুর রহমান বলেন, ‘কক্ষের দরজা ভেঙ্গে লাশটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে। তবে মনে হচ্ছে আত্মহত্যা।’
এছাড়াও পুকুরে গোসল করতে নেমে দীপক কুমার সরকার (৪৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে শহরের আদালত পাড়া পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি বাসাইল পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত মুধসুধন সরকারের ছেলে।
নিহতের ভাই প্রদীপ কুমার সরকার বলেন,‘দীপক কুমার সরকার শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শিমুল জেন্টস পার্লারে কাজ করতো। সকালে পুকুরে গোসল করতে নামলে কিছুক্ষণ পর তার লাশ পানিতে ভেসে ওঠে।
অন্যদিকে সাব্বির (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের নামদার কুমুল্লি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাব্বির ওই এলাকার মিন্টু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আজমেরি রহমান মুন্নী বলেন,‘পারিবারিক কলহের জের ধরে দেড় মাস আগে তার স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যায়। পরে কয়েক দফা শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীকে আনতে যায় সাব্বির। কিন্তু তার সঙ্গে বউ না এসে উল্টো ঝগড়া করে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারও তার স্ত্রীকে আনার জন্য গেলে সে তার সঙ্গে আসেনি। পরে শুক্রবার রাতে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায় সাব্বির। শনিবার সকালে ঘুম থেকে না উঠায় পরিবারের লোকজন তার কক্ষের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।