মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তৃতীয় দফায় উচ্ছেদের দ্বিতীয় দিনের অভিযানে চারটি ডকইয়ার্ড (আংশিক), একটি দ্বিতল ভবন, চারটি একতলা ভবন, সিরামিক কারখানা, বালুর গদি, দোকানসহ ২৫টি বৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিপ্তীময়ী জামানের নেতৃত্বে রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পূর্বগ্রাম এলাকায় শীতলক্ষ্যার পশ্চিম তীরে এ উচ্ছেদ অভিযান চালায় সংস্থাটি। উচ্ছেদ অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (বন্দর) শফিকুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক গুলজার আলী এবং উপ-পরিচালক শহিদুল্লাহ।
অভিযানে তানহা ডকইয়ার্ডকে ১ লাখ, মায়ের পরশ ডকইয়ার্ডকে ১ লাখ, জাকির ডকইয়ার্ডকে ১ লাখ, মালেক ডকইয়ার্ডকে ১ লাখ, আলামিন ডকইয়ার্ডকে ১ লাখ, রহিম ডকইয়ার্ডকে ১ লাখ, শাহিন ডকইয়ার্ডকে ১ লাখ টাকাসহ মোট ৯টি ডকইয়ার্ডকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া নিলামের মাধ্যমে জব্দ বালু ও পাথর ৯৬ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়।
উচ্চ আদালতের আদেশ
উচ্চ আদালতের আদেশে রাজধানীর আশেপাশের নদীগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে বিআইব্লিউটিএ। আদালতের আদেশে বলা হয়, নদীর পানি থেকে দেড়শ ফিট পর্যন্ত নদীর জমি হিসেবে বিবেচ্য। ১২ এপ্রিল থেকে রূপগঞ্জের সুলতানা কামাল সেতু থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ। তিন দফায় সাত দিন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে নারায়ণগঞ্জ বিআইডিব্লিউটিএ।
অভিযোগ
নদীর পশ্চিমপাড়ের পূর্বগ্রাম থেকে বড়ালু পর্যন্ত অন্তত ৪০টি ডকইয়ার্ড থাকলেও মাত্র ৫টি ডকইয়ার্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আটটি ডকইয়ার্ডকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা ও লাইসেন্স নেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিপ্তীময়ী জামান। চনপাড়া বস্তির বাসিন্দা আবু বক্কর জানান, তার বাড়ির জমির হাল নাগাদ খাজনাপাতি পরিশোধ করা। কিন্তু, বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা এসব কোনও কথা না শুনেই তার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যদি নদীর তীরের জায়গাই হতো, তবে এসসিল্যান্ড অফিস কি করে জমির মিউটেশন এবং খাজনাপাতি গ্রহণ করলো। নদীর পূর্বপাড়ের নোয়াপাড়ায় মমিন টেক্সটাইলকে বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করলেও কাগজপত্রে দেখিয়েছে ২ লাখ টাকা। বাকি ৪০ হাজার টাকা কোন খাতে নেওয়া হয়েছে, তার কোনও রশিদ দেওয়া হয়নি বলে জানান মমিন মিয়া।
বিআইডব্লিউটিএর বক্তব্য
বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ অফিসের যুগ্মপরিচালক গোলজার আলী জানান, গত সাত দিনে পৌনে দুইশ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে দ্বিতল, তিনতলা ভবনসহ কাঁচাপাকা ও টিনসেড অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। নদীর তীরে গড়ে ওঠা ৪০টি ডক ইয়ার্ডের মধ্যে চারটি ডক ইয়ার্ডের আংশিক ভাঙা হয়েছে। আটটি ডক ইয়ার্ডের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। নিয়ম মেনেই উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রায় ২০ বছর আগে সিটি গ্রুপ নদীর তীরে জেটি নির্মাণ করার জন্য লাইসেন্স নিয়েছে। সে প্রক্রিয়া অনুযায়ী সিটি গ্রুপ নদীর তীর দখল করেনি।
মমিন টেক্সটাইল মিলের অভিযোগ সম্পর্কে গোলজার আলী বলেন, ‘নিয়ম মেনেই জরিমানা করা হয়েছে। ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার জরিমানা আদায় করা হয়েছে, তার মধ্যে ৪০ হাজার টাকা ভ্যাট-টেক্স বাবদ কাটা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় কোনও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নদীর সীমানা পিলারের ব্যাপারে গোলজার আলী বলেন, ‘আগের সীমানা পিলার স্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে। ৫ হাজার ১১টি সীমানা পিলার পুনঃস্থাপনের অনুমোদন হয়েছে। সেই সীমানা অনুযায়ী রুপগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।’