‘এক শতাংশ ভিটে ছাড়া আর কোনও সম্পদ নেই। পাঁচ লাখ টাকা ধারদেনা করে ছেলে সৌদি আরব গিয়েছিল। ২৯ দিন আগে ছেলে সেদেশে পৌঁছে। আর প্রথম দিনই কাজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের ছেড়ে চলে গেছে পরপারে।’
এটুকু বলেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন নূরজাহান বেগম; যিনি সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামাল উদ্দিন মাঝির মা। জামাল উদ্দিনের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার তাঁরাকান্দি গ্রামে। এ বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জামাল উদ্দিনকে হারিয়ে শোকের মাতম চলছে পরিবারটিতে।
বুধবার (১ মে) সকালে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ১০ বাংলাদেশি। এর মধ্যে তিন জনের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায়। জামাল উদ্দিন ছাড়া মনোহরদীর বাকি দুইজন হলেন– এ উপজেলার তাঁতারদি শেখেরগাঁও এলাকার রশিদুল হকের ছেলে ইমদাদুল হক ও ডোমনমারা খিদিরপুর এলাকার আব্দুল মান্নান শেখের ছেলে মো. আল আমিন। জামাল উদ্দিনের পরিবারের মতো ইমদাদুল হক ও আল আমিনের পরিবারেও মাতম চলছে। সন্তান হারিয়ে দুই পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা। পরিবার তিনটির সদস্যেরা মরদেহগুলো দ্রুত দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন।
নিহত তিন জনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাদের পরিবারের সদস্যদের কান্না-আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। স্বান্তনা জানাতে এগিয়ে এসেছেন আত্মীয়-স্বজনেরা। উপার্জনক্ষম স্বজনদের এমন মৃত্যুতে শোকে নির্বাক হয়ে গেছেন স্বজনদের কেউ কেউ। শেষবারের মতো নিহত স্বজনদের দেখার আশায় সরকারের মাধ্যমে দ্রুত মৃতদেহ দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। আর স্থানীয়রা সরকারকে পরিবার তিনটির পাশে দাঁড়াতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
নিহত জামাল উদ্দিনের স্ত্রী দিলরুবা বেগম বলেন, ‘৪ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে আমি এখন অসহায়। কে এ সংসারের হাল ধরবে? আমার স্বামীকে শেষবারের মতো দেখতে চাই। সরকার যেন দ্রুত আমার স্বামীর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।’
তাঁরাকান্দি ইউপির সদস্য ও নিহত জামালের চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জামাল তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। ভাইয়েরা পৃথক পৃথক সংসার করছেন। পরিবারটি খুবই দরিদ্র হওয়ায় সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিবারে সুদিন আসবে –এই আশায় সৌদি আরবে যান ইমদাদুল হক ও আল আমিন। ধারদেনা করে তারাও মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে যান। এখন পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাদের স্বজনেরা।
উল্লেখ্য, বুধবার (১ মে) সকালে রিয়াদ থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে শাকরায় ১৭ জন বাংলাদেশিকে বহনকারী একটি মিনিবাস চাকা ফেটে উল্টে যায়। এতে ১০ বাংলাদেশি নিহত হন। তারা সবাই আল হাবিব কোম্পানি ফর ট্রেডিং কর্মাশিয়াল কন্ট্রাক্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।