‘আমাগোরে লাশটা আইন্যা দেন। আমগোরে সংসার এহন ক্যামনে চলবো? সুদি আর ঋণ কিবায় সুদাবো? এহন আমাগোরে দেখবো ক্যাডায়?’
বিলাপ করে করে কথাগুলো বলছিলেন রাশেদা বেগম; যিনি সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাহাদুরের (৩৫) স্ত্রী। বাহাদুর টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ঝগড়মান গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। শুক্রবার এ বাড়িতে গেলে স্বজনদের বিলাপ করতে দেখা যায়।
স্বামী হারানোর যন্ত্রণার ছাপ রাশেদা বেগমের চোখে-মুখে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় তার বিহ্বল দৃষ্টি স্পর্শ করছে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও। থেমে থেমে কাঁদছেন তারাও।
বুধবার (১ মে) সকালে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ১০ বাংলাদেশি। এর মধ্যে দুইজনের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে। বাহাদুর ছাড়া অন্য জন হলেন উপজেলার কস্তুরিপাড়ার শামছুল হকের ছেলে মনির হোসেন (২০)। বাহাদুরের পরিবারের মতো মনিরের পরিবারেও মাতম চলছে। স্বজন হারিয়ে এ পরিবারের সদস্যরাও দিশেহারা। এ পরিবার দুটির সদস্যেরাও মরদেহ দ্রুত দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, নিহত বাহাদুরের পরিবারে ৯ সদস্য। এর মধ্যে চারজনই আবার প্রতিবন্ধী। বাহাদুরের বাবা প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঋণ করে একমাস সাতদিন আগে সৌদি আরবে পাড়ি দেন বাহাদুর। এখন একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বজন হারিয়ে আকূল পাথারে পড়েছে পরিবারটি।
এ ব্যাপারে কালিহাতী পৌরসভার মেয়র আলী আকবর বলেন, ‘তার (বাহাদুর) পরিবারে এত লোক প্রতিবন্ধী, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। শিগগিরই পরিবারটির প্রতিবন্ধী সদস্যদের কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত মনির হোসেন মাত্র ১৩ দিন আগে ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তার পরিবারে পাঁচ সদস্য। মনিরের বাবা ইরাক প্রবাসী। সেখানে কাজ করার সময় প্রায় একমাস তার বাম হাতের চারটি আঙুল মেশিনে কাটা পড়ে। বর্তমানে তিনি ইরাকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মনির হোসেনের মা মমতাজ বেগম বলেন, ‘মাত্র কয়েকদিন আগে ঋণ করে আমার পোলাটারে বিদেশ পাঠাইছি। আপনারা আমার পোলাটারে আইন্যা দেন। কয়েকদিন আগে মনিরের বাবারও হাতের আঙ্গুল কেটেছে। এহন আর আমার কিছু রইলো না।’
উল্লেখ্য, বুধবার (১ মে) সকালে রিয়াদ থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে শাকরায় ১৭ জন বাংলাদেশিকে বহনকারী একটি মিনিবাস চাকা ফেটে উল্টে যায়। এতে ১০ বাংলাদেশি নিহত হন। তারা সবাই আল হাবিব কোম্পানি ফর ট্রেডিং কর্মাশিয়াল কন্ট্রাক্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।