সিদ্ধিরগঞ্জে ভুয়া ডাক্তারের সাজা, হাসপাতাল সিলগালা

গ্রেফতার ভুয়া ডাক্তার ও হাসপাতালের ম্যানেজার

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ায় হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক ভুয়া ডাক্তারসহ দু’জনকে গ্রেফতার করে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভুয়া ডাক্তার মো. তানভীর আহমেদ সরকারকে (৩৪) দু’বছর ও ওই ক্লিনিকের ম্যানেজার আবুল বাশারকে (৩২) এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাব ফোর্সের সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সরোয়ার আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ সাজা দেন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিলগালা করে দেয়। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় র‌্যাব-১১ এর একটি দল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিবের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

রোগীকে দেওয়া ভুয়া ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১১ এর মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, ভুয়া ডাক্তার মো. তানভীর আহমেদ সরকারের বাবার নাম আ. মতিন চৌধুরী। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার শিবনগর এলাকায়। সে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী দেখে আসছে। গ্রেফতার তানভীর বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে নিজের নাম ডা.মো.তানভীর আহমেদ সরকার উল্লেখ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন রোগীর প্রেসক্রিপসনে তিনি ভিন্ন ভিন্ন নামে স্বাক্ষর করেন। এমনকি ভর্তি হওয়া রোগীদের ফাইলে ও প্রেসক্রিপশনেও সে নিজেই ভিন্ন ভিন্ন নামে স্বাক্ষর করতো। তার এ সব কাজে হাসপাতালের ম্যানেজার আবুল বাশার সহায়তা করতো। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ডাক্তারের অজান্তে তাদের নাম ব্যবহার করে রোগী দেখে আসছিলেন। র‌্যাবের এ দলটি চিকিৎসক হিসেবে তার নিবন্ধিত সনদ দেখতে চাইলে তিনি কোনও সনদ দেখাতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় সে ২০০১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও ২০০৯ সালে কারিগরী শিক্ষা বোর্ড থেকে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি পাশ করে। পরে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজসে সে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে রোগী দেখা শুরু করে। এভাবে সে রোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে। অভিযানে হাসপাতালের ওটিতে সরকারি (বিক্রয়যোগ্য নয়)ওষুধ পাওয়া যায় এবং এ হাসপাতালে কোনও এমবিবিএস ডাক্তার ছিল না।