সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ফেরিতে কোন কোন মালবাহী গাড়ি উঠবে তা ঠিক রাখার নামে ইজারাদাররা চালাচ্ছে চাঁদাবাজী। ঘাটের ইজারাদার জিতু মিয়া বেপারির শ্যালক রিপন মিয়ার নেতৃত্বে ৪/৫ জন লোক পণ্যবাহী ট্রাক ও পিকআপ থেকে মাত্রাতিরিক্ত চাঁদা আদায় করছে। তাদের চাহিদামতো চাঁদা দিলেই শুধু গাড়ি পারাপারের সিরিয়াল পাওয়া যাচ্ছে।
শরীয়তপুরে প্লাস্টিকের পাইপ নামিয়ে খালি পিকআপ নিয়ে ফেনী যাচ্ছিলেন চালক নান্টু চন্দ্র দাস। ফেরি ভাড়া ৯২০ টাকা হলেও তার কাছ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।
যশোর থেকে আম ও পিঁয়াজ নিয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন দুই ট্রাকচালক রবিউল হোসেন ও আইয়ূব আলী। তাদের দুজনকেই যথাক্রমে এক হাজার ও ১৫শ’ টাকা বেশি দিয়ে ফেরিতে ওঠার সিরিয়াল নিতে হয়েছে।
ট্রাকচালক আইয়ূব আলী বলেন, মাছ বা কাঁচামালের গাড়ি দেখলেই ইজারাদারের লোকজন ইচ্ছামতো চাঁদা দাবি করে। আমার পিঁয়াজের গাড়ির সব মিলিয়ে ভাড়া পড়ে ১৫শ’ ১০ টাকা। কিন্তু ফেরিতে ওঠার জন্য মোট ২৫শ’ টাকা দিতে হয়েছে আমাকে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে দু-একদিনের মধ্যে সিরিয়াল পেতাম না।
খুলনা থেকে মাছ নিয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী রহিম মিয়া। তিনি বলেন, শুধুমাত্র মাছের গাড়ি হওয়ায় সিরিয়ালের জন্য তিন হাজার টাকা বেশি দিয়েছি। ফেরি ভাড়া ও টোল ১ হাজার ৯৬০ টাকা হলেও সময়মতো ফেরিতে ওঠার জন্য মোট পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি।
তবে ঘাটের ইজারাদার জিতু মিয়া বেপারির শ্যালক রিপন মিয়া অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তিনি বলেন, ‘পণ্যবাহী গাড়ি থেকে অল্প কিছু টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়। এখান থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের কিছু টাকা দেওয়া হয়। আবার অনেকে সাহায্যের জন্য আসে। তাদের সহায়তা করা হয়।’
গাড়ি পারাপারে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. আব্দুল মোমিন বলেন, ‘আমাদের লোকজন শুধু ফেরি ভাড়াটা আদায় করে থাকে। আর ইজারাদারের লোকজন টার্মিনাল চার্জ ও পার্কিং ইয়ার্ড চার্জ আদায় করে থাকে। গাড়ি পারাপারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও ড্রাইভার অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’