ঈদ সামনে রেখে চলছে লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি মেরামত

01পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্কসপে চলছে লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন মেরামত আর রঙের কাজ। বহু বছরের পুরনো এসব গাড়িগুলোর গায়ে রঙ-চঙ লাগিয়ে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। ঈদে ফিটনেসবিহীন এসব গাড়ি রাস্তায় নামলে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। আর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

সরেজমিন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘেঁষা মানিকগঞ্জের উচুটিয়া এলাকাসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্কসপে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে লক্কড়-ঝক্কড় বাস মেরামতের কাজ চলছে। ফিটনেসবিহীন ভাঙাচোরা গাড়িগুলো ঝালাই করে জোড়াতালি দেওয়া হচ্ছে। কোনও গাড়ির ইঞ্জিন, সড়ক দুর্ঘটনায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া, ব্রেকে সমস্যা কিংবা সিটগুলো ছেড়া সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। মিস্ত্রিরা এসব পুরাতন গাড়ি মেরামতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
২৫-২৬ রোজার মধ্যে লক্কড়-ঝক্কড় এসব গাড়িতে রঙচঙ মাখিয়ে রোডে নামানো হবে।

রাব্বি ওয়ার্কসপে গিয়ে দেখা গেছে, রঙমিস্ত্রি উজ্জ্বল পুরনো গাড়িগুলোর বডিতে রঙের কাজ করছেন। কাজের ফাঁকে তিনি জানান, ঈদকে সামনে রেখে পুরাতন গাড়ি রঙ করে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। সময়মতো ডেলিভারি দিতে দিন-রাত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে তাদের।

02রাব্বি মোটরসের পরিচালক সানোয়ার মিয়া বলেন, এবারের ঈদে গাড়ির কাজ কম হচ্ছে। বর্তমানে যেসব গাড়ি আমরা মেরামত করছি সেগুলোর বেশিরভাগেরই রোড পারমিট নেই। ঈদের দুই-চার দিন আগে রঙচঙ শেষ করে গাড়িগুলো মালিকদের কাছে ডেলিভারি দিতে হবে।’

বাসচালক কুদ্দুস মিয়া বলেন, ঈদে প্রত্যেক যাত্রীই চায় সুন্দর গাড়িতে উঠতে। তাই বাসের সিট ও বডিতে রঙের কাজ করতে ওয়ার্কসপে আনা হয়েছে। ঈদের সময় গাড়ির ফিটনেস না থাকলে পুলিশ ও সার্জেন্টরা বিরক্ত করে। তাই গাড়ি চাকচিক্য করা হচ্ছে।

রাব্বি ওয়ার্কসপের পাশেই সেকেন্দার ওয়ার্কসপ। সেখানেও লক্কড়-ঝক্কড় কয়েকটি গাড়ি মেরামতের কাজ চলছে। কেউ বাসে রঙ করছে, কেউ ইঞ্জিন খুলে বসেছে আবার কেউ সিট ও বডির কাজ করছে। এভাবেই এখানকার কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ওয়ার্কসপের মালিক সেকেন্দর আলী বলেন, মাথায় এখন টেনশন, পুরনো গাড়িগুলো মেরামত শেষে ২৫-২৬ রোজার মধ্যে কীভাবে ডেলিভারি দেওয়া যায়। তাই রাত-দিন কাজ করা হচ্ছে।

03যাত্রীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, রঙচঙ মেখে গাড়িগুলো রোডে নামানোয় অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। লক্কড়-ঝক্কড় বাসের পাশাপাশি মহাসড়কে টেম্পু, সিএনজি চলাচল বেড়ে গেছে। এসব গাড়ি মহাসড়কে চলাচলে বন্ধ না হলে ঈদে দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি থাকলে ঈদে ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।

মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন গাড়ি যাতে রাস্তায় চলাচল করতে না পারে সে জন্য প্রতিনিয়তই চেকিং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মহাসড়কে যাতে তিন চাকার গাড়িগুলো চলাচল করতে না পারে সে দিকেও আমাদের নজরদারি থাকবে। জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে এ ব্যাপারে কাজ করে যাবে।’