ধীরাশ্রম লেভেল ক্রসিংয়ের গেট কিপার মামুন মিয়া জানান, অস্থায়ী নিয়োগের ভিত্তিতে তাদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। কবে বেতন হবে তাও রেলপথ কর্মকর্তারা বলতে পারছেন না। পাওনাদারের চাপে অনেকে দিশেহারা। টাকার অভাবে অনেকের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে। তাদের এ দুর্ভোগের কথা কেউ শুনতে চায় না।
মামুন মিয়া আরও জানান, রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশল (পথ) অধীনে গাজীপুরের ধীরাশ্রম ও মীরের বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ১২ জন গেট কিপারের বেতন আসে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ থেকে। বেতনের ব্যাপারে ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি সাক্ষাৎ করতে চান না। উল্টো ধমক ও গালমন্দ করেন।
রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) টঙ্গী কার্যালয়ের মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এই দুই লেভেল ক্রসিংয়ের ১২ গেট কিপারের ২১ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শর্ত অনুযায়ী বেতনের টাকা সওজ বিভাগ অগ্রিম রেলপথ বিভাগকে জমা দিয়ে থাকে। কিন্তু নতুন করে টাকা বরাদ্দ না দেওয়ায় ওই ১২ জনের বেতন ২০১৭ সালের জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে।’ এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তিনি সর্বশেষ গত ৩ মে ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী এম ছালাম জানান, বরাদ্দ পাওয়া গেলে বেতন দেওয়া হবে।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সাইফ উদ্দিন বলেন, ‘ওই দুই গেটের জন্য রেলওয়ের সঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১০ বছরের চুক্তি ছিল। ওই চুক্তি ২০১৭ সালের জুন মাসে শেষ হয়ে গেছে। ওই সময়ের পর থেকে গেটম্যানদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দায় আমাদের নয়। তবে চুক্তি সময়ের ২১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৭ টাকা বকেয়া রয়েছে। গেটম্যানরা আমার কাছে এসেছিল। তাদের করুণ অবস্থা দেখে আমি ওই টাকা ছাড়ের উদ্যোগ নিয়েছি। ঈদের পর ওই টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা চুক্তি শেষ হওয়ার আগে উদ্যোগ নিলে গেটম্যানদের এমন অবস্থা হতো না।’