এদিকে স্বজনদের কাছে অগ্নিদগ্ধ জিয়াসমিনের এক ভিডিও ফুটেজেও ঘটনার জন্য তার স্বামীকে দোষারোপ করতে শোনা গেছে। তবে পুলিশ বলছে, জিয়াসমিন দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসকদের জানিয়েছেন তিনি নিজে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
ঘটনার পর থেকে জিয়াসমিনের স্বামী সিরাজুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় শনিবার (৮ জুন) রাত ১২টা পর্যন্ত শ্রীনগর থানায় কোনও মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউনুচ আলী। তিনি বলেন, ‘গৃহবধূ জিয়াসমিন ডাক্তারের কাছে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন। এ কারণে এখনও মামলা হয়নি। তাছাড়া, তার স্বজনরা এখন তার চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’
ওসি ইউনুচ আলী জানান, ঘটনার পর থেকে জিয়াসমিনের স্বামী পলাতক আছেন। এছাড়া শনিবার পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তার ভাই সাব্বির হোসেন অভিযোগ করেন, ‘সিরাজুলের সঙ্গে আমার বোন জিয়াসমিনের বিয়ের পর থেকেই নানান ঝামেলা হয়েছে। তাদের দুটি ছেলে-মেয়ে, এর মধ্যে মেয়েটি প্রতিবন্ধী। এ নিয়েও জিয়াসমিনের ওপর নির্যাতন করা হতো। সিরাজ কোনও কাজ করতেন না, ঘুরে-ফিরে খেতেন। ঈদের সময় বাবার বাড়িতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সিরাজের সঙ্গে জিয়াসমিনের ঝগড়া হয়, এর জেরে সিরাজুল কেরোসিন ঢেলে জিয়াসমিনের গায়ে আগুন দেয়।’
এদিকে স্বজনদের ধারণ করা ভিডিওতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন জিয়াসমিনকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমার স্বামী আমার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে।’
বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জিয়াসমিনের শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।