শ্রীনগরে দগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু

গৃহবধূ জিয়াসমিন

মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে নিজ বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ জিয়াসমিন (৪০) মারা গেছেন। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মঙ্গলবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। জিয়াসমিনের বড় ভাই মো. সিরাজুল ইসলাম আরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, শুক্রবার (৭ জুন) দুপুরে শ্রীনগর উপজেলার শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের সেলামতি গ্রামে নিজ বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হন জিয়াসমিন। তার বাবার বাড়ির স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর দেওয়া আগুনে তিনি ঝলসে গেছেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে পুলিশ বলছে, জিয়াসমিন দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসকদের জানিয়েছেন তিনি নিজে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
এ ঘটনায় রবিবার সিরাজদিখান থানায় স্বামী সিরাজুল ইসলামকে আসামি করে নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন জিয়াসমিনের বড় ভাই আরিফ।
জিয়াসমিন কোলাপাড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ পাইকসা গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ২৩ বছর আগে সেলামতি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার এক মেয়ে ও মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ছেলে রয়েছে।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউনুচ আলী জানান, নারী নির্যাতন আইনে জিয়াসমিনের স্বামী সিরাজুলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জিয়াসমিনকে নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় স্বামী পলাতক আছে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, নারী নির্যাতন আইনে মামলাটি হয়েছে। শিগগির পলাতক স্বামীকে গ্রেফতার করা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীনগর উপজেলা শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের সেলামতি গ্রামের সিরাজুল ইসলাম তার স্ত্রী জিয়াসমিনের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রতিবেশীরা উদ্ধার করার আগেই তার গায়ের বেশিরভাগ অংশ ঝলসে যায়।
জিয়াসমিনকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠান।