তারা বলছেন, বাঁধ নির্মিত হলে পানি প্রবাহ বাধা পেয়ে ইউনিয়নের গুরতা ও টুলি বিলের শতাধিক একর আবাদযোগ্য জমিতে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কমপক্ষে দুই হাজার কৃষক। এ ব্যাপারে কৃষকরা জেলা মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বরকুল গ্রামের পল্লি চিকিৎসক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকাবাসীর সুবিধার্থে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটির নিচে বাঁধ নির্মাণ করা হলে কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে।’
কৃষক শামসুল হক বলেন, ‘গুরতা ও টুলি বিলে ছয় মাস ফসল উৎপাদন হয়। বাকি ছয় মাস গবাদি পশুর খাদ্য এবং দেশীয় প্রজাতির প্রাকৃতিক মাছ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হলে তাদের বাজার থেকে চাল কিনে খেতে হবে। খাদ্যের অভাবে মারা যাবে গবাদিপশু।’
কৃষক জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘প্রভাবশালীরা বিলের মধ্যে লাল পতাকা উড়িয়ে সীমানা চিহ্নিত করেছেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মৎস্য বিভাগে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে; তারপরও বাঁধ নির্মাণকাজ সক্রিয় রয়েছে। বাঁধ দিলে বিলের পাড় ভেঙে যাবে।’
জেলা মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ওই অভিযোগপত্রের অনুলিপি জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে পাঠিয়েছেন তারা।
এদিকে, গাজীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া হায়দার চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি সেতুর নিচে বাঁধ নির্মাণের কোনও অভিযোগ পাননি। তবে এ রকম অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে, স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।