ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ঘোড়াশাল রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম

রেলস্টেশনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ রেলওয়ে স্টেশনের ভবনটি। বহু বছরের পুরনো ভবনটির সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে স্টেশনের কার্যক্রম। ফলে যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, শিল্পসমৃদ্ধ ঘোড়াশাল শহরে হাজারও মানুষের বাস। এখানে রয়েছে দেশের বৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, দু’টি সার কারখানা, দু’টি সিমেন্ট কারখানা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের তিনটি কারখানা, তিনটি জুটমিল, পেপার মিল, ডাইং, সিলিন্ডার গ্যাস ও রড ফ্যাক্টরিসহ অসংখ্য ছোট বড় কারখানা।

এসব কারখানায় দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। পলাশ উপজেলা থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিনিয়ত হাজারও যাত্রী যাতায়াত করেন। তাদের মধ্যে  বেশিরভাগ যাত্রীই ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল। এই স্টেশনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও  বাধ্য হয়েই ট্রেনে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

রেলস্টেশনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ঘোড়াশাল বাজার এলাকার আমির হোসেন জানান, সড়কপথে যানজটের ভোগান্তির কারণে ট্রেনে প্রতিদিন ঢাকা আসা-যাওয়া করি। এই স্টেশনের পুরাতন ভবনটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভবনের নিচতলার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এছাড়াও ভবনটির কয়েকটি পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে যে কোনও সময়ই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এই স্টেশন থেকে নিয়মিত ঢাকা যাতায়াতকারী উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের আশরাফুল আলম গাজী বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যদি স্টেশনের পুরাতন এই ভবনটির সংস্কার করতে না পারেন তাহলে যেনও  এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। কারণ পাশেই একটি নতুন স্টেশনে ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। অথচ সেটিকে চালু না করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্টেশনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ফোনে যোগাযোগ করা হলে রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রধান প্রকৌশলীর অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে পারি না।’