পুলিশে চাকরির কথা বলে টাকা নেওয়ার সময় এসআইসহ আটক ২





টাকা নেওয়ার সময় আটক এসআই ও নারী (সামনের মাঝে)টাঙ্গাইলে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার সময় পুলিশের এসআই ও এক নারীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (২১ জুন) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। শনিবার (২২ জুন) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়।

আটক দু’জন হলেন—জামালপুর সদর কোর্টের এসআই মোহাম্মদ আলী ও জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার খায়রুল বাশারের স্ত্রী শাহানাতুল আরেফিন সুমি (৩৫)। মোহাম্মদ আলী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইনছান আলীর ছেলে।

জব্দ করা লেনদেনের টাকাসঞ্জিত কুমার রায় জানান, শেরপুর সদর থানার তারাগড় নামাপাড়া গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ভাতিজা কবির হোসেন ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য এসআই মোহাম্মদ আলী ও খায়রুল বাশারের সঙ্গে চুক্তি করেন। ১০ লাখ টাকা নিয়ে কবিরের চাচা ওয়াজেদ মাইক্রোবাসে শুক্রবার জামালপুর থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় খায়রুল বাশার, তার স্ত্রী শাহানাতুল আরেফিন সুমি ও এসআই মোহাম্মদ আলী ওই গাড়িতেই ছিলেন। গাড়িতে বসেই তারা টাকা লেনদেন করেন। পরে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ওয়াজেদ আলীকে গাড়িতে  রেখে ১০ লাখ টাকা ভ্যানিটি ব্যাগে নিয়ে সুমি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দিকে যান। কিছুক্ষণ পর নিচে নেমে এসে ওই টাকা স্বামী খায়রুল বাশারকে দেন। টাকাগুলো নিয়ে খায়রুল বাশার চলে যান। বিষয়টি ওয়াজেদ আলী দেখে ফেলেন। এতে তার সন্দেহ হলে তিনি পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু সুমি তাকে জানান, এসপি’র গেস্ট এসেছেন, তিনি দেখা করতে পারবেন না। এরপর সুমির সঙ্গে ওয়াজেদ আলীর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন ডিবি পুলিশের এসআই ফরিদ উদ্দিনসহ কয়েকজন। তারা বিষয়টি জানতে চাইলে ওয়াজেদ আলী বিস্তারিত বলেন। ঘটনা শোনার পর তখনই এসআই মোহাম্মদ আলী ও সুমিকে আটক করা হয়। এ সময় সুমির ব্যাগের এক লাখ ৯৫ হাজার টাকা, খাইরুল বাশার নামে সাংবাদিক পরিচয়ের আইডি কার্ড ও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়। স্বামীর কাছে আট লাখ পাঁচ হাজার টাকা আছে বলেও জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন সুমি। শনিবার (২২ জুন) ওই তিন জনের নামে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে এসআই মোহাম্মদ আলী ও সুমিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আগামী ১ জুলাই টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স থেকে কনস্টেবল পদে লোক নেওয়া হবে। সেখানে সরকারের নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা ও ফরমের দাম তিন টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হবে। এর বাইরে কেউ অবৈধ টাকা লেনদেন করলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।