নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। নরসিংদী জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনও ঘটনা না ঘটলেও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ডেঙ্গু আতংক দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের ধারণা এসব রোগী ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। নরসিংদীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন সৈয়দ আমীরুল হক এ কথা জানান।
সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পর্যন্ত নরসিংদীতে ২১ জন রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। দুটি সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৭ জন। এর মধ্যে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ৪ জন ও নরসিংদী সদর হাসপাতালে ৩ জন। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭ জন। অন্যরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
সরেজমিন নরসিংদীর ১শ’ শয্যার জেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, আক্রান্ত রোগীদের মশারির মধ্যে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষে কয়েল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে ডেঙ্গু শনাক্ত করার লজিস্টিক সাপোর্ট ও রিএজেন্টের অভাবে শুধু মাইক্রোস্কোপ দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। হঠাৎ করে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হওয়ায় নানা সঙ্কটের মধ্যেও আন্তরিকতা দিয়ে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের অধিকাংশই ছাত্র এবং চাকরিজীবী। ঢাকায় লেখাপড়া অথবা চাকরি করেন এমন ব্যক্তিদের বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর পাশের জেলা হওয়ায় আক্রান্তরা কোনও না কোনওভাবে ঢাকা থেকে ডেঙ্গুর জীবানু বহন করে নিয়ে এসেছেন। আমরা বিপদজনক পর্যায়ে নেই। তবে আমরা সব রকম প্রস্তুতি নিচ্ছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সবচেয়ে বড় সরকারি দুটি হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত করার লজিস্টিক সাপোর্ট ও রিএজেন্ট নেই। আক্রান্তরা এই দুটি হাসপাতালে এলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য শহরের বিভিন্ন ডায়গনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি ৫০০ টাকা হলেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে ১৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ আছে। অনেক ক্ষেত্রে, এসব বেসরকারি চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকার নির্ধারিত ফি নেওয়ার কথা উঠলে স্টিপ না থাকার অজুহাতে পরীক্ষা করা হচ্ছে না।
নরসিংদীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন সৈয়দ আমীরুল হক জানান, সার্বিকভাবে এখানকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি অন্যান্য জেলার তুলনায় কম। ২১ জন ছাড়া আর কোনও ব্যক্তির ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর আমরা পাইনি। নরসিংদী যদি ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা না হতো তা হলে একটাও ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যেত না। আমাদের হাসপাতালগুলোতে দ্রুত সব ধরনের রিএজেন্ট ও লজিস্টিক সাপোর্ট চলে আসার কথা রয়েছে।